ফ্রোজেন চিকেন: আপনি কি ফ্রোজেন চিকেন খাচ্ছেন? আপনার স্বাস্থ্য কি ঝুঁকিতে আছে?

ফ্রোজেন চিকেন: আপনি কি ফ্রোজেন চিকেন খাচ্ছেন? আপনার স্বাস্থ্য কি ঝুঁকিতে আছে?

ব্যস্ত জীবনযাত্রার দৌড়ে এখন সময়ের বড্ড অভাব। বাজারে গিয়ে টাটকা সবজি বা মাংস কেনার সময় নেই অনেকেরই। ফলে চটজলদি রান্নার জন্য সুপারমার্কেটের প্যাকেটজাত ‘ফ্রোজেন চিকেন’ বা হিমায়িত মাংসের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু আপনার এই অভ্যাস কি নীরবে শরীরে কোনো মরণব্যাধি ডেকে আনছে? সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে আসছে কিছু উদ্বেগজনক তথ্য।

ফ্রোজেন চিকেন আসলে কী?

সহজ কথায়, যে মাংস কাটার পর দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের জন্য বিশেষ রাসায়নিক বা অত্যাধিক নিম্ন তাপমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তাই হিমায়িত মাংস। অনেক ক্ষেত্রে এই মাংস কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত ফ্রিজে জমিয়ে রাখা হয়। বিক্রির সুবিধার্থে এতে বিভিন্ন ধরণের প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়, যা মাংসের স্বাভাবিক গঠন দীর্ঘক্ষণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যের ওপর এর ভয়াবহ প্রভাব

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমায়িত মাংস নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে:

  • পুষ্টির অভাব: হিমায়িত প্রক্রিয়ায় মাংসের প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদানগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে। ফলে আপনি পেট ভরলেও শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়।
  • হজমজনিত জটিলতা: দীর্ঘদিন হিমাঙ্কে থাকা মাংস হজম করা শরীরের জন্য অত্যন্ত কঠিন। এটি নিয়মিত খেলে গ্যাস, দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা এবং বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়।
  • ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ: সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করা হলে ফ্রোজেন চিকেনে ‘সালমোনেলা’ ও ‘ই. কোলাই’-এর মতো বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। এর ফলে তীব্র খাদ্যে বিষক্রিয়া (Food Poisoning), বমি এবং ডায়রিয়া হতে পারে।
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: হিমায়িত মাংস দীর্ঘকাল টাটকা দেখাতে অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক ও কৃত্রিম হরমোন প্রয়োগ করা হয়। যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

শিশু ও বৃদ্ধদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি

বাড়ির শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং গর্ভবতী মহিলাদের পাচনতন্ত্র তুলনামূলক সংবেদনশীল হয়। হিমায়িত মাংসের রাসায়নিক ও প্রিজারভেটিভ তাঁদের ওপর দ্রুত কুপ্রভাব ফেলে, যা থেকে বড় ধরণের শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তাজা মাংস কেন সেরা পছন্দ?

তাজা মাংস বা ‘লাইভ চিকেন’ সহজেই হজম হয় এবং এতে কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক থাকে না। এর পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে যা শরীরের গঠন ও বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়তা করে। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকতে বাজার থেকে কেনা টাটকা মাংসেরই কোনো বিকল্প নেই।

একান্তই ফ্রোজেন চিকেন কিনলে যা মনে রাখবেন:

১. শুধুমাত্র অনুমোদিত এবং বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত মাংস কিনুন।

২. কেনার আগে অবশ্যই উৎপাদনের তারিখ এবং ‘এক্সপায়ারি ডেট’ দেখে নিন।

৩. প্যাকেট খোলার পর একবার ঘরের তাপমাত্রায় এলে তা পুনরায় ফ্রিজে রাখবেন না।

৪. মাংস রান্নার সময় উচ্চ তাপমাত্রায় ভালো করে সেদ্ধ করুন যাতে ভেতরে কোনো জীবাণু বেঁচে না থাকে।

সুবিধা আর স্বাস্থ্যের মধ্যে লড়াইয়ে জয়ী হোক আপনার স্বাস্থ্যই। মনে রাখবেন, আজকের সামান্য অলসতা ভবিষ্যতের বড় স্বাস্থ্য সংকটের কারণ হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে টাটকা ও প্রাকৃতিক খাবারের ওপরই ভরসা রাখুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *