আমেরিকাকে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি: ‘হামলা মানেই সর্বাত্মক যুদ্ধ’

আমেরিকাকে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি: ‘হামলা মানেই সর্বাত্মক যুদ্ধ’

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের ছোটখাটো হামলাকেও তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ (All-out war) হিসেবে গণ্য করবে এবং তার কঠোর জবাব দেবে।

ইরানের কড়া বার্তার মূল বিষয়গুলো:

  • তীব্র প্রতিশোধের হুমকি: ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমেরিকার এই সামরিক তৎপরতাকে তারা সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন। কোনো ধরনের উসকানি দেওয়া হলে ইরান তার পূর্ণ শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত হানবে।
  • সীমিত হামলাও গ্রহণযোগ্য নয়: ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হামলা ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ নাকি ‘সীমিত পরিসরে’, তা তাদের কাছে বিবেচ্য নয়। যেকোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপকেই যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে দেখা হবে।
  • সর্বোচ্চ সতর্কতা: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে ইতিমধ্যেই ‘হাই অ্যালার্ট’-এ রাখা হয়েছে। রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) কমান্ডারের কথায়, “আমেরিকা ও ইসরায়েলের যেকোনো হুমকির জবাব দিতে আমাদের আঙুল সবসময় ট্রিগারেই থাকে।”

আমেরিকার সামরিক প্রস্তুতি:

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’। এর পাশাপাশি টমাহক মিসাইল সজ্জিত তিনটি ডেস্ট্রয়ার জাহাজ এবং এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে পেন্টাগন।

প্রেক্ষাপট ও উত্তেজনা:

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রায় ৫,০০০ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও, আমেরিকার এই নতুন সামরিক পদক্ষেপ উত্তেজনাকে ফের তুঙ্গে নিয়ে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর চাপের কারণেই ইরান মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে পিছিয়ে এসেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *