১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া যাত্রার সমাপ্তি ২০২৬-এ! পায়ে হেঁটে বিশ্বজয় করলেন এক ব্যক্তি

কলকাতা: একজন মানুষ তার জীবনে কত কিলোমিটার হাঁটতে পারেন? এই প্রশ্ন শুনলেই আমাদের মাথায় হাজার হাজার কিলোমিটারের হিসেব আসতে পারে। কিন্তু ১৯৯৮ সালে একটি ছোট্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে শুরু হওয়া এক অসাধারণ সফর দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বিশ্ব ভ্রমণ শেষে ২০২৬ সালে এসে সমাপ্ত হলো।
বিমান বা ট্রেন নয়, বরং শুধুমাত্র নিজের পায়ের ওপর ভরসা করে মহাদেশের পর মহাদেশ পাড়ি দিয়ে মানবিক সংকল্পের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন এই অভিযাত্রী। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই অদম্য জেদ ও অনুপ্রেরণার গল্প।
একটি ছোট্ট পদক্ষেপ – একটি বিশাল লক্ষ্য
১৯৯৮ সালে যখন বিশ্ব প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দিকে এগোচ্ছিল, তখন এক দুঃসাহসী অভিযাত্রী পৃথিবীকে নিজের পায়ে স্পর্শ করার সিদ্ধান্ত নেন। কোনো বিলাসবহুল যানবাহন ছাড়াই, শুধুমাত্র একটি ছোট ব্যাকপ্যাক আর কয়েক জোড়া পোশাক নিয়ে শুরু হয়েছিল এই দীর্ঘ পদযাত্রা। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইংল্যান্ড পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন তিনি।
জঙ্গল, মরুভূমি আর তুষারশুভ্র পাহাড়—প্রকৃতির দেওয়া প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে তিনি হাসিমুখে গ্রহণ করেছেন। ভিন্ন ভিন্ন দেশ, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আর হাজার হাজার অচেনা মানুষ তাকে আশ্রয় দিয়েছেন। এই যাত্রা কেবল কোনো রেকর্ড গড়ার জন্য ছিল না; বরং পৃথিবী কতটা সুন্দর এবং মানুষ কতটা দয়ালু হতে পারে, তা জানার এক নীরব অন্বেষণ ছিল এটি।
পায়ে হেঁটে বিশ্বজয়ের সেই অনন্য সফর: ১৯৯৮ থেকে ২০২৬
এই ২৮ বছরের দীর্ঘ সফরে সময়ের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তিনি যখন হাঁটা শুরু করেছিলেন, তখন স্মার্টফোন ছিল না, ছিল না গুগল ম্যাপস। কেবল কম্পাস আর কাগজের মানচিত্রই ছিল তার পথপ্রদর্শক। কয়েক দশক ধরে পৃথিবী ডিজিটাল হয়ে উঠলেও তার হাঁটার গতি কমেনি।
ক্ষুধা সহ্য করে, ভাষা না জানা জায়গায় ইশারায় মনের ভাব প্রকাশ করে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সীমান্তগুলো বুদ্ধিমত্তার সাথে পার হয়ে তিনি এগিয়ে গেছেন। অসুস্থতার সময় প্রাকৃতিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠে তিনি নিজের পায়ের শক্তি বিশ্বকে দেখিয়েছেন। এই সফর তাকে ধৈর্য, সহনশীলতা এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের পাঠ শিখিয়েছে।
অবশেষে ২০২৬ সালে যখন তিনি তার গন্তব্যে পৌঁছালেন, তখন তার পায়ের নিচে হাজার হাজার কিলোমিটারের অভিজ্ঞতা। বার্ধক্যের ছাপ ফুটে উঠলেও চোখে ছিল লক্ষ্য ছোঁয়ার এক তৃপ্ত বিজয়ীর গর্ব। তিনি প্রমাণ করেছেন, “বিশ্ব জয় করা মানে যুদ্ধ করা নয়, বরং ভালোবেসে হেঁটে জয় করা।” তিনি আর কেউ নন, তিনি কার্ল বুশবি।