অদ্ভূত কর্মী! ১৫ বছর ছুটিতে থেকেও বেতন না বাড়ায় কো ম্পা নির বিরুদ্ধে মামলা

ভাবুন তো, কোনো সংস্থায় যোগ দেওয়ার পর অসুস্থতার কারণে ছুটিতে গেলেন আর সেই ছুটি চলল টানা ১৫ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে আপনাকে অফিস যেতে হলো না, অথচ প্রতি বছর বেতন পাচ্ছেন ঘরে বসেই। সাধারণ মানুষের কাছে এটি স্বপ্নের মতো মনে হলেও, ব্রিটেনের এক আইটি কর্মীর কাছে এটিও যথেষ্ট ছিল না। উল্টে বেতন না বাড়ায় কো ম্পা নির বিরুদ্ধেই মামলা ঠুকে দিলেন তিনি।
IBM-এর মতো বিশ্বখ্যাত টেক কো ম্পা নির কর্মী ইয়ান ক্লিফর্ডের এই ঘটনাটি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে। ইয়ান ক্লিফর্ড আইবিএম ইউকে-তে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণে তিনি মেডিকেল লিভ নেন। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় তিনি আর কাজে ফিরতে পারেননি।
৫ বছর পর প্রথম অভিযোগ
২০১৩ সালে, টানা ৫ বছর ছুটিতে থাকার পর ইয়ান প্রথমবার কো ম্পা নির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তার দাবি ছিল, এতদিনেও তার বেতন একবারও বাড়ানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হলে আইবিএম-এর সঙ্গে তার একটি চুক্তি হয়। সেই অনুযায়ী ইয়ানকে কো ম্পা নির বিশেষ ‘সিকনেস অ্যান্ড এক্সিডেন্ট স্কিম’-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। চুক্তিতে ঠিক হয়, কাজ না করলেও ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত ইয়ান প্রতি বছর তার শেষ বেতনের ৭৫ শতাংশ টাকা পাবেন। সেই হিসাবে বছরে প্রায় ৫৪ হাজার পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকা) পাচ্ছিলেন তিনি। অবসরের আগে পর্যন্ত তার প্রায় ১৫ কোটি টাকা পাওয়ার কথা ছিল।
১০ বছর পর ফের মামলা
গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো, কিন্তু হয়নি। ২০২২ সালে ইয়ান পুনরায় আইবিএম-এর বিরুদ্ধে ‘অক্ষমতা বৈষম্য’ (Disability Discrimination)-এর অভিযোগ এনে মামলা করেন। তার যুক্তি ছিল, ২০১৩ সাল থেকে তার বাৎসরিক ভাতার পরিমাণ মুদ্রাস্ফীতি অনুযায়ী বাড়ানো হয়নি। জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও তার আয় একই জায়গায় আটকে থাকায় আয়ের প্রকৃত মূল্য কমে যাচ্ছে।
আদালতের রায়
২০২৩ সালে আদালত ইয়ানের এই মামলা খারিজ করে দেয়। বিচারক স্পষ্ট জানান, আইবিএম আজীবন যে পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা নিজেই একটি বড় সুবিধা। সাধারণ কর্মীরা এই সুবিধা পান না। কোনো বিশেষ সুবিধা পাওয়ার পর আরও বেশি দাবি করাকে ‘বৈষম্য’ বলা যায় না। আইটি সেক্টরে যেখানে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের জন্য কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, সেখানে ১৫ বছর ঘরে বসে বেতন পেয়েও এমন মামলা রীতিমতো চমকে দিয়েছে বিশ্বকে।