বাজেট অধিবেশনের আগে সংঘাত: সর্বদলীয় বৈঠকে G-RAM-G এবং SIR নিয়ে আলোচনার দাবি নাকচ সরকারের

বাজেট অধিবেশনের আগে সংঘাত: সর্বদলীয় বৈঠকে G-RAM-G এবং SIR নিয়ে আলোচনার দাবি নাকচ সরকারের

বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক আগেই মঙ্গলবার আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ তৈরি হলো। ৩৯টি রাজনৈতিক দলের ৫১ জন নেতার উপস্থিতিতে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে। বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হবে এবং বৃহস্পতিবার পেশ করা হবে অর্থনৈতিক সমীক্ষা (Economic Survey)।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে। সংসদের এই বাজেট অধিবেশনে বিতর্কিত ‘জি-রাম-জি’ (G-RAM-G) আইন এবং এসআইআর (SIR) নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছিল বিরোধীরা। তবে সরকার পক্ষ এই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। বৈঠক শেষে সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু স্পষ্ট জানান, এই দুটি বিষয়ে ইতিমধ্যেই সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হয়ে গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “একবার যখন কোনো আইন দেশের সামনে চলে আসে, তখন তা পালন করাই আমাদের কাজ। আমরা গিয়ার রিভার্স করে পেছনে ফিরে যেতে পারি না।”

সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধীদের একগুচ্ছ অভিযোগ

বৈঠকে কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ এবং সিপিএম-এর জন ব্রিটাস সহ বিরোধী নেতারা বাজেট অধিবেশনের সরকারি কর্মসূচির তালিকা আগে থেকে না জানানোয় তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেন। নাগিনা কেন্দ্রের সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ ইউজিসি-র (UGC) নতুন নির্দেশিকা নিয়ে সরব হন। এ ছাড়াও, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন, মনরেগা-র (MGNREGA) পরিবর্তে আনা জি-রাম-জি আইন, ভারতের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপানো ট্যারিফ, পররাষ্ট্র নীতি, বায়ু দূষণ এবং দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার দাবি জানান বিরোধী সদস্যরা।

হইহট্টগোল নয়, বাজেটেই মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান

সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বিরোধীদের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, এটি বছরের প্রথম অধিবেশন। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব গঠনমূলক আলোচনা করা। তিনি বলেন, “কথা বলার অধিকার প্রয়োগ করার পাশাপাশি অন্য দলের সদস্যদের কথা শোনার মানসিকতাও রাখা উচিত।” তিনি সাংসদদের হট্টগোল না করে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং বাজেটের ওপর বিতর্কের সময় নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরার পরামর্শ দেন।

রিজিজু আরও জোর দিয়ে বলেন যে, নিয়মানুযায়ী বাজেট অধিবেশনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত বাজেট। সংসদীয় রীতি মেনে প্রথমে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং তারপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় বিরোধীরা নানা বিষয়ে কথা বলতে পারেন। সরকার সব সময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু বিরোধীরা যদি হট্টগোল করে সদন ত্যাগ করে বা কার্যপ্রণালী ব্যাহত করে, তবে তা দুর্ভাগ্যজনক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *