৭৫ বছরের অপেক্ষার অবসান: সিঙ্গুর থেকে ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’-এর উদ্বোধন করলেন মমতা

৭৫ বছরের অপেক্ষার অবসান: সিঙ্গুর থেকে ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’-এর উদ্বোধন করলেন মমতা

কলকাতা: অবশেষে বাস্তবের মুখ দেখছে বহু প্রতীক্ষিত ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’। বুধবার সিঙ্গুরের প্রশাসনিক সভা থেকে এই মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম জমানায় যে প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছিল, তৃণমূল নেত্রীর হাত ধরে দীর্ঘ কয়েক দশকের সেই সংগ্রাম এবার পূর্ণতা পাওয়ার পথে। এদিনের মঞ্চেও মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই ছিলেন ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দেব।

একনজরে প্রকল্পের খুঁটিনাটি:

  • বাজেট: মোট ১৫০০ কোটি টাকা (ইতিমধ্যেই ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য)।
  • পরিধি: দুই মেদিনীপুরের মোট ৮০১ বর্গ কিমি এলাকা।
  • সুবিধা: ফি বছর বন্যার কবলে পড়া ১৩টি ব্লকের প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের সুফল পাবেন।

সংগ্রামের ইতিহাস:

১৯৫২ সালে ঘাটালের তৎকালীন সাংসদ নিকুঞ্জবিহারী চৌধুরী প্রথমবার নদী সংস্কারের দাবি তুলেছিলেন। এরপর ১৯৫৯ সালে জওহরলাল নেহরুর নির্দেশে গঠিত মান সিং কমিশন বন্যা রোধে একটি রিপোর্ট দেয়। ১৯৮২ সালে তৎকালীন বাম সেচমন্ত্রী প্রভাস রায় এই প্রকল্পের শিলান্যাস করলেও তা দীর্ঘকাল ফাইলবন্দি ছিল। ২০১৪ সালে সাংসদ হওয়ার পর দেব লোকসভায় বারবার সরব হন। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থসাহায্যে কাজ হওয়ার কথা থাকলেও, কেন্দ্রের সহযোগিতা না পেয়ে রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগেই এই কাজ শেষ করার দায়িত্ব নিয়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:

প্রকল্পের উদ্বোধন হলেও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক থামছে না। তৃণমূল নেতা অজিত মাইতির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী অসাধ্য সাধন করে দেখালেন। অন্যদিকে, বিজেপির কটাক্ষ, এটি নিছকই ‘ভোটের গিমিক’। বামেদের মতে, কেন্দ্রীয় অনুমোদন ছাড়া আংশিক খাল সংস্কার করে মাস্টার প্ল্যান সম্ভব নয়। এরই মধ্যে ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটি’ রাজ্য সরকারকে সাধুবাদ জানালেও, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘাটালে না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছে।

ঘাটালের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং আন্দোলনের ফল এই মাস্টার প্ল্যান। শিলাবতী ও কংসাবতীর গভীরতা বাড়িয়ে নিকাশি ব্যবস্থা সচল করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *