শরীরের জন্য ফাইবার কেন জরুরি? জেনে নিন সুস্থ জীবনশৈলীর গোপন রহস্য

আজকের দিনে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ফাইবার বা খাদ্যআঁশ স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে বিবেচিত হয়। সাধারণত মনে করা হয় যে ফাইবার হজমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ক্ষেত্রে ফাইবার উপকারী কি না তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
বিশেষ করে যারা হজমের সমস্যা এবং অন্ত্রের প্রদাহে ভুগছেন, তাদের জন্য ফাইবার কখনো কখনো উপকারের চেয়ে সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। ফাইবার হলো খাবারের সেই উপাদান যা সরাসরি হজম হয় না এবং শরীরকে সরাসরি শক্তি দেয় না, কিন্তু সুস্থতার জন্য এটি অপরিহার্য। ফাইবার মূলত দুই প্রকারের হয়: দ্রবণীয় (Soluble) এবং অদ্রবণীয় (Insoluble)। দ্রবণীয় ফাইবার জলে মিশে জেলির মতো তৈরি হয়, যা শরীরের কোলেস্টেরল কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
অদ্রবণীয় ফাইবার পরিপাকতন্ত্রে বর্জ্য তৈরি করে খাবার দ্রুত চলাচলে সাহায্য করে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণে শরীরকে সাহায্য করে। ফাইবার খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে, যা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া ফাইবারের প্রি-বায়োটিক গুণাগুণ অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
নিয়মিত ফাইবার জাতীয় খাবার গ্রহণ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক। দ্রবণীয় ফাইবার রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমিয়ে হৃদযন্ত্র ভালো রাখে, অন্যদিকে অদ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। তাজা ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, ওটস এবং গোটা শস্য ফাইবারের চমৎকার উৎস। সঠিক পরিমাণে ফাইবার গ্রহণ করলে শরীরের শর্করার ভারসাম্য বজায় থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
অন্ত্র হলো আমাদের পরিপাকতন্ত্রের প্রধান অংশ। আমরা যা খাই তা পাকস্থলী ও অন্ত্রের মাধ্যমেই হজম হয়। এই ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ না করলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেট ব্যথা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দেয়। অন্ত্রে হালকা ফুসকুড়ি বা জ্বালাভাব হলে খাবারের গতি ধীর হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ফাইবার জাতীয় উপাদান অন্ত্রেই আটকে থাকে, যা গেঁজিয়ে গিয়ে গ্যাস তৈরি করে। এই কারণেই ফাইবার খাওয়ার পর অনেকের গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্য বেড়ে যায়।
অনেকে সুস্থ থাকার আশায় প্রচুর পরিমাণে সালাদ, ডাল এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান। কিন্তু অন্ত্র যখন তা হজম করার জন্য প্রস্তুত থাকে না, তখন এই খাবারগুলোই শরীরের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য ফাইবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া ভালো। তবে এর অর্থ এই নয় যে ফাইবার পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। হজমের সমস্যা মেটা পর্যন্ত এর পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত যাতে অন্ত্র বিশ্রাম পায়। এই অবস্থায় ঘি বা ভালো তেলের মতো ‘হেলদি ফ্যাট’ অন্ত্রের জন্য উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত লবণ ও জল পান করলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়। অনেকে ওজন বাড়ার ভয়ে ফ্যাট এড়িয়ে চলেন, কিন্তু সঠিক পরিমাণে ফ্যাট অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়।