কাল থেকে মহার্ঘ্য সিগারেট-গুটখা! পকেটে টান পড়তে চলেছে নেশাসক্তদের

আপনি কি ধূমপান বা পান মশলায় আসক্ত? তবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আপনার মাসিক বাজেটে বড়সড় টান পড়তে চলেছে। আগামীকাল থেকে দেশে তামাকজাত পণ্যের ওপর কর আদায়ের এক নতুন এবং কঠোর নিয়ম কার্যকর হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে আপনার পকেটে।
কেন বাড়ছে দাম?
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জিএসটির সংশোধিত হার নিয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা হলেও, সিগারেট এবং তামাকজাত পণ্যের বিশেষ কর ব্যবস্থা আগামীকাল থেকেই কার্যকর হবে। পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সিগারেটে অতিরিক্ত ‘আবগারি শুল্ক’ (Excise Duty) এবং পান মশলার ওপর ‘হেলথ সেস’ (Health Cess) চাপানো হচ্ছে। মনে রাখবেন, এই নতুন কর জিএসটির সর্বোচ্চ হার অর্থাৎ ৪০ শতাংশের ওপর আলাদাভাবে যোগ হবে। ২০১৭ সাল থেকে এই পণ্যগুলিতে ২৮ শতাংশ জিএসটি এবং কমপেনসেশন সেস লাগু ছিল, যা এখন আরও জটিল ও ব্যয়বহুল হতে চলেছে।
এমআরপি-র ওপর নতুন ট্যাক্স গণিত
সরকার কর আদায়ের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে চিবিয়ে খাওয়ার তামাক, খৈনি, জর্দা এবং গুটখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) ভিত্তিক মূল্যায়ন শুরু হবে। অর্থাৎ প্যাকেটের গায়ে যে দাম লেখা থাকবে, তার ওপর ভিত্তি করেই জিএসটি নির্ধারিত হবে। এর ফলে কর ফাঁকি দেওয়া আসাম্ভব হয়ে পড়বে এবং বাজারে তামাকজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক।
নজরদারিতে কড়াকড়ি
শুধু গ্রাহক নয়, কো ম্পা নিগুলোর ওপরেও নজরদারি বাড়িয়েছে সরকার। পান মশলা প্রস্তুতকারকদের এখন থেকে ‘স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা উপকর আইন’-এর অধীনে নতুন রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। কর ফাঁকি রুখতে প্রতিটি কারখানায় প্যাকিং মেশিনের ওপর সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ফুটেজ অন্তত ২৪ মাস বা ২ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া কতগুলো মেশিন চলছে এবং উৎপাদন ক্ষমতা কত, তার খুঁটিনাটি তথ্য আবগারি কর্মকর্তাদের জানাতে হবে।
সিগারেটের লম্বা অনুযায়ী দাম
সিগারেট প্রেমীদের জন্য হিসেবটা একটু ভিন্ন। কেন্দ্রীয় আবগারি আইন অনুযায়ী, এখন থেকে সিগারেটের দৈর্ঘ্য বা লম্বার ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারিত হবে। সিগারেটের মাপ অনুযায়ী প্রতি স্টিক বা শলাকায় ২.০৫ টাকা থেকে ৮.৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক গুনতে হবে। ফলে কাল থেকে সিগারেট কিনতে গেলে আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হবে আপনাকে।