‘আমি অনুতপ্ত, ক্ষমা চাইছি’, বিস্ফোরক হুমায়ুন কবীর; নিশানায় মমতা

লোকসভা নির্বাচনের আগে হিন্দুদের নিয়ে করা নিজের বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য এবার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। শনিবার রেজিনগরের এক জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, সেই সময় দেওয়া উস্কানিমূলক বক্তব্যের জন্য তিনি লজ্জিত ও অনুতপ্ত। তবে এই ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই বিতর্কিত মন্তব্য?
হুমায়ুন কবীরের দাবি, বহরমপুরে ইউসুফ পাঠানের হার নিশ্চিত জেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে বিশেষ ‘কিছু’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। হুমায়ুনের কথায়, “দিদি আমাকে বলেছিলেন, ইউসুফ পাঠান ও আবু তাহের হেরে যাচ্ছেন। আমি যেন পরিস্থিতি সামলাই। মুখ্যমন্ত্রীর কথা রাখতেই আমি উত্তেজিত হয়ে বিজেপি করা হিন্দুদের ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলাম।”
হিন্দু ভাইদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা
বিগত দিনে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে হুমায়ুন বলেন, যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু এখন তিনি বুঝতে পারছেন যে সেটি ভুল ছিল। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর কথা রাখতে গিয়ে আমি আমার হিন্দু ভাইদের মনে আঘাত দিয়েছি। আমি আজ প্রকাশ্যে করজোড়ে ক্ষমা চাইছি। ভবিষ্যতে এমন মিথ্যাবাদী মুখ্যমন্ত্রীর পাল্লায় পড়ে আর কাউকে আঘাত করব না।”
মহম্মদ সেলিমের মন্তব্যের প্রতিধ্বনি
সম্প্রতি সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম দাবি করেছিলেন যে, মমতার নির্দেশেই হুমায়ুন কবীর সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়াতেন। শনিবার হুমায়ুনের গলাতেও শোনা গেল একই সুর। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করতে গিয়েই যে তিনি বিতর্কে জড়িয়েছিলেন, তা এখন জনসমক্ষে স্বীকার করে নিলেন এই দুঁদে নেতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।