যোগ-ব্যায়াম না হাঁটা? সুস্থ থাকতে সবথেকে জরুরি কোনটি, জানালেন নিউরোলজিস্ট

যোগ-ব্যায়াম না হাঁটা? সুস্থ থাকতে সবথেকে জরুরি কোনটি, জানালেন নিউরোলজিস্ট

শরীর সুস্থ রাখতে আমরা কত কিছুই না করি—কঠোর ডায়েট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিম কিংবা ভোরে উঠে মাইলের পর মাইল হাঁটা। কিন্তু জানেন কি, সামান্য পরিশ্রমে দীর্ঘক্ষণ সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে অন্য এক অভ্যাসে? হায়দরাবাদের অ্যাপোলো হাসপাতালের বিশিষ্ট নিউরোলজিস্ট ডক্টর সুধীর কুমার জানিয়েছেন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ঘুমই আসল মহৌষধ

ডক্টর কুমারের মতে, ভোর ৪টেয় উঠে যোগব্যায়াম বা দৌড়ানোর চেয়ে শরীরকে ৭-৮ ঘণ্টার পর্যাপ্ত ঘুম দেওয়া অনেক বেশি উপকারি। ব্যায়াম এবং সুষম খাবার অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু শরীরে যদি ঘুমের ঘাটতি থাকে, তবে কোনো পরিশ্রমই সঠিক ফল দেবে না।

কেন ঘুম এত জরুরি?

মুম্বাইয়ের নিউরোলজিস্ট ডক্টর প্রশান্ত মাখিজাও একই সুর মিলিয়েছেন। তাঁর মতে, কঠোর ডায়েট বা ব্যায়াম শুরুর আগে ঘুমের সময়সূচী ঠিক করা জরুরি। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি নষ্ট হতে পারে, যা পরবর্তীকালে ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ভোরে ওঠা কি তবে ক্ষতিকর?

অনেকেই মনে করেন ব্রহ্মমুহূর্তে বা ভোর ৪টেয় ঘুম থেকে ওঠাই সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ। কিন্তু চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন যে, যদি আপনার ৭-৮ ঘণ্টার ঘুম পূর্ণ না হয়, তবে জোর করে ভোরে ওঠা শরীরের জন্য বিপজ্জনক। এতে শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে সারাদিন ক্লান্তি, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

ভালো ঘুমের তিন দাওয়াই

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল শুয়ে থাকলেই হবে না, ঘুমের গুণমান নিশ্চিত করতে হবে তিনটি বিষয়ে:

  • সময়সীমা: প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।
  • গভীরতা: মস্তিষ্ক যাতে নিজেকে মেরামত করতে পারে, তার জন্য ‘ডিপ স্লিপ’ বা গভীর ঘুম জরুরি।
  • শৃঙ্খলা: ছুটির দিন হোক বা কাজের দিন, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা উচিত।

সুস্থ থাকতে চাইলে আজ থেকেই ব্যায়ামের আগে নিজের ঘুমের দিকে নজর দিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *