টিপু সুলতানের ছবি নিয়ে রণক্ষেত্র মালেগাঁও পুরনিগম, শিবসেনার তীব্র বিরোধিতায় তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ

মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও পুরনিগমে টিপু সুলতানের ছবি রাখা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক। সমাজবাদী পার্টির নেতা তথা ডেপুটি মেয়র শান-এ-হিন্দ নিহাল আহমেদের দপ্তরে মহীশূরের এই শাসকের ছবি থাকায় কড়া আপত্তি জানিয়েছে শিবসেনা ও বিজেপি। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, ড. বি আর আম্বেদকর বা অন্য কোনো জাতীয় নেতার ছবি না রেখে টিপু সুলতানের ছবি টাঙানো আসলে দেশনায়কদের অপমান।
বিতর্কের মূলে কী?
ডেপুটি মেয়রের ঘরে টিপু সুলতানের ছবি দেখে সরব হন শিবসেনা কাউন্সিলররা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই ছবি সরিয়ে ফেলতে হবে। বিরোধীদের প্রশ্ন, যেখানে সংবিধান প্রণেতা বা দেশের প্রধান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবি অনুপস্থিত, সেখানে বিতর্কিত এক ঐতিহাসিক চরিত্রের ছবি কেন প্রাধান্য পাবে? পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
পাল্টা যুক্তি ডেপুটি মেয়রের
বিতর্কের মুখে দমে না গিয়ে পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছেন ডেপুটি মেয়র নিহাল আহমেদ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, টিপু সুলতান ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী। আদালতও তাঁর জন্মদিন পালনের বিরোধিতাকে খারিজ করেছে। তিনি বলেন, “সহকর্মী কাউন্সিলররা আমাকে এই ছবি উপহার দিয়েছেন। আমার দপ্তরে কার ছবি থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমার আছে।” বর্তমানে দপ্তরে মেরামতির কাজের জন্য ছবিটি সাময়িকভাবে সরানো হলেও, কাজ শেষ হলে তা আবারও স্বস্থানে ফেরানো হবে বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তিনি।
প্রশাসনের দিকেও আঙুল
ডেপুটি মেয়র আরও প্রশ্ন তোলেন যে, পুরনিগম কেন এখনও ড. বি আর আম্বেদকরের মতো ব্যক্তিত্বদের ছবি টাঙানোর ব্যবস্থা করেনি? এর জন্য তিনি সরাসরি পুর প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন। মালেগাঁওয়ের ক্ষমতায় বর্তমানে ইসলাম পার্টি, সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের জোট রয়েছে। এই ছবি বিতর্ককে কেন্দ্র করে এখন মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আদর্শ বনাম ইতিহাসের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে।