মহাশিবরাত্রির উপোসে ক্লান্তি দূরে রাখবে এই ৫টি পুষ্টিকর খাবার

মহাশিবরাত্রি মানেই ভক্তি আর উপোসের মেলবন্ধন। তবে সারাদিন না খেয়ে থাকা সবার শরীরের পক্ষে অনুকূল হয় না, বিশেষ করে যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি বা যাঁরা শারীরিক দুর্বলতায় ভোগেন। উপোস মানেই শরীরকে কষ্ট দেওয়া নয়, বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে মন ও প্রাণ সতেজ রাখা। শিবরাত্রির ব্রত পালনের পাশাপাশি শরীরকে চনমনে রাখতে আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন এই সুস্বাদু পদগুলি।
সাবুর খিচুড়ি
ভোরবেলা পুজোর প্রস্তুতির ফাঁকে ঝটপট বানিয়ে নিতে পারেন সাবুর খিচুড়ি। ভেজানো সাবুদানা, ভাজা চিনাবাদাম, সেদ্ধ আলু, জিরে ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে ঘিতে নাড়াচাড়া করে তৈরি এই পদ শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। সৈন্ধক লবণ ব্যবহারের ফলে এটি ব্রতের জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
কুট্টু পুরি আর আলুর সব্জি
দুপুরের খাবারে বৈচিত্র্য আনতে বেছে নিন কুট্টু বা বাজরার আটার পুরি। এটি গ্লুটেনমুক্ত এবং ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় হজমে অত্যন্ত সহায়তাকারী। হালকা মশলা আর সৈন্ধক লবণ দিয়ে তৈরি আলুর দমের সঙ্গে এই গরম গরম লুচি বা পুরি তৃপ্তিদায়ক তো বটেই, স্বাস্থ্যকরও।
মিলেটের খিচুড়ি
যাঁরা দুপুরের খাবারে হালকা কিছু খুঁজছেন, তাঁদের জন্য মিলেটের খিচুড়ি আদর্শ। কম ক্যালরিযুক্ত এবং সহজপাচ্য হওয়ায় এটি ব্রতর দিনে শরীরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে না। চিনাবাদাম ও আলুর সংমিশ্রণে তৈরি এই খিচুড়ি আপনাকে দিনভর কাজ করার প্রয়োজনীয় এনার্জি দেবে।
আলুর চাট
বিকেলের হালকা খিদে মেটাতে আলুর চাটের জুড়ি নেই। সেদ্ধ আলু, ভাজা বাদাম, গোলমরিচ গুঁড়ো, লেবুর রস ও ধনেপাতা কুচি মিশিয়ে তৈরি এই টক-ঝাল পদটি অত্যন্ত মুখরোচক। এতে অ্যাসিডিটির ভয় কম থাকে এবং তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়।
মাখানার ক্ষীর
মিষ্টিমুখ করতে পাতে রাখুন প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর মাখানার ক্ষীর। দুধ, এলাচ এবং চিনির বদলে অল্প আখের গুড় ব্যবহার করলে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও নিরাপদ হয়ে ওঠে। মাখানা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং মিষ্টির ক্রেভিং মেটাতে সাহায্য করে।
মহাশিবরাত্রির এই পবিত্র তিথিতে ভক্তি বজায় রাখুন শরীরের সঠিক যত্ন নিয়েই। সুস্থ থেকে মহাদেবের আরাধনা পূর্ণতা পাক আপনার এই পুষ্টিকর আহারে।