হোমিওপ্যাথি কলেজে ‘ভাড়াটে’ শিক্ষক ধরলেই ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা

দেশের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষায় বড়সড় দুর্নীতির পথ বন্ধ করতে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল ন্যাশনাল কমিশন ফর হোমিওপ্যাথি (এনসিএইচ)। এবার থেকে কোনো হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে ‘ভূতুড়ে’ বা ভাড়াকরা শিক্ষক ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে শিক্ষক পিছু ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। রেহাই পাবেন না সেই ভুয়ো শিক্ষকও, তাঁর পকেট থেকেও খসবে ৫ লক্ষ টাকা।
কেন এই কড়া দাওয়াই?
অভিযোগ উঠেছে, বহু কলেজ এনসিএইচ-এর অনুমোদন পেতে বা আসন সংখ্যা বাড়াতে নিজেদের স্থায়ী শিক্ষক না থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে এনে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেয়। এই ‘ভূতুড়ে’ শিক্ষকদের দাপট রুখতেই এবার শাস্তির বিধান দিল কমিশন। কমিশনের মেডিকেল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড রেটিং বোর্ডের নতুন নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে যে—
- ভর্তিতে কারচুপি: নিট (NEET) বা স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি এমন কোনো ছাত্রছাত্রীকে নিয়ম ভেঙে ভর্তি করালে পড়ুয়া পিছু ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে কলেজকে।
- জাল নথি ও অভিজ্ঞতা: কোনোদিন কলেজে না পড়িয়েও যদি শিক্ষকতার জাল অভিজ্ঞতা বা শংসাপত্র পেশ করা হয়, তবে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে।
- পরিকাঠামোয় খামতি: পরিদর্শনের সময় ধরা পড়া ত্রুটিগুলি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধন না করতে পারলে অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
ডিজিটাল নয়, জোর দিতে হবে রোগীর চিকিৎসায়
একই সঙ্গে দেশের ২৯১টি হোমিওপ্যাথি কলেজের অধ্যক্ষদের কড়া বার্তা দিয়েছেন এনসিএইচ-এর মেডিকেল এডুকেশন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ডাঃ রজত চট্টোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র অনলাইন বা ডিজিটাল তথ্যের ওপর নির্ভর করে পড়াশোনা চললে হবে না। হবু ডাক্তারদের হাতে-কলমে শিখতে হবে। আউটডোর ও ইনডোরের রোগী দেখা এবং মূল পাঠ্যবই পড়ার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।