পুলওয়ামা হামলার ৭ বছর পর আজও চোখের জল শুকায়নি শহিদ পরিবারের, মেলেনি প্রতিশ্রুতির সম্মান

পুলওয়ামা হামলার ৭ বছর পর আজও চোখের জল শুকায়নি শহিদ পরিবারের, মেলেনি প্রতিশ্রুতির সম্মান

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারের পাতায় সেই অভিশপ্ত দিনটি আজও ভারতবাসীর বুকে এক গভীর ক্ষত। পুলওয়ামার ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ৪০ জন বীর সিআরপিএফ জওয়ান দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। আজ সেই ঘটনার সপ্তম বর্ষপূর্তিতে যখন গোটা দেশ শ্রদ্ধায় মাথা নত করছে, তখনই সামনে এল এক করুণ বাস্তব। শহিদদের পরিবারের অভিযোগ, সাত বছর পার হয়ে গেলেও সরকারের দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতিই আজও কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।

চোখের জলে আক্ষেপ শহিদ-পত্নীর

শহিদ জওয়ান জয়মল সিংয়ের স্ত্রী সুখজিৎ কাউরের গলার স্বরে আজ শুধুই হতাশা। তিনি বলেন, “স্বামীর নামে একটি স্টেডিয়াম তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। গালাউটি রোডে একটি স্মারক গেট নির্মাণের কথা থাকলেও সেই কাজ আসাম্পূর্ণ পড়ে আছে।” ওড়নায় চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বীরের সম্মান কি এভাবেই দেওয়া হয়?

অধরা রয়ে গেছে স্কুলের নামকরণ

একই সুর শোনা গেল শহিদ সুখজিন্দর সিংয়ের ভাই গুরজন্ত সিংয়ের গলায়। তাঁদের দাবি ছিল, ভাইয়ের স্মৃতি রক্ষার্থে স্থানীয় সরকারি স্কুলের নামকরণ করা হোক তাঁর নামে। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেই দাবি পূরণ হয়নি। আসাম্পূর্ণ পড়ে থাকা স্টেডিয়ামের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য প্রশাসনের কাছে বারবার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।

দেশজুড়ে শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে এদিন সামাজিক মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “জওয়ানদের দেশপ্রেম ও সংকল্প দেশবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।” পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বীর জওয়ানদের প্রতি তাঁদের অন্তহীন শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গেও শহিদদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন।

তবে রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে শহিদ পরিবারগুলির একটাই চাওয়া— প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং বীর সন্তানদের প্রাপ্য মর্যাদা। প্রিয়জন হারানোর ক্ষত হয়তো কোনোদিন শুকাবে না, কিন্তু তাঁদের নামে স্মারক বা স্কুলের নামকরণ অন্তত সেই পরিবারের যন্ত্রণায় কিছুটা হলেও প্রলেপ দিতে পারে।

ওয়েব ডেস্ক
  • ওয়েব ডেস্ক

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *