দিল্লিকে কড়া বার্তা দিয়ে কি সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন তারেক রহমান

দিল্লিকে কড়া বার্তা দিয়ে কি সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন তারেক রহমান

ঢাকা: নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনেই আগামীর বিদেশনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মন্ত্রকে সামনে রেখেই প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। সাফ জানিয়েছেন, কোনো দেশকেই ‘প্রভু’ হিসেবে মানা হবে না, বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই নির্ধারিত হবে আগামীর কূটনৈতিক পথচলা।

তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে ভারত, চীন এবং পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যের সম্পর্ক বজায় রেখে চলবে তাঁর সরকার। শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। তবে ব্যক্তিগত সংঘাত নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নই যে তাঁর মূল লক্ষ্য, তা এদিন তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে।

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাকে কূটনীতিবিদরা একটি ‘সৌহার্দ্যের বার্তা’ হিসেবে দেখছেন। ভারতের পাশাপাশি চীন, আমেরিকা, ব্রিটেন এবং তুরস্কের প্রতিনিধিদেরও এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতেই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি। এই জয়ের পর নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে তারেক বলেন, “এই বিজয় গণতন্ত্রকামী জনগণের। কোনো অজুহাতেই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা যাবে না।” দলমত নির্বিশেষে দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, নতুন বাংলাদেশে দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *