অনলাইনেও আবেদন করা যাবে যুবসাথী প্রকল্পে, আজ থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে বিশেষ শিবির

রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জন্য বড়সড় সুখবর দিল নবান্ন। আজ, রবিবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে শুরু হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের নতুন কর্মসূচি ‘স্বনির্ভর বাংলা’। এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে শিবির করে যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং খেতমজুরদের আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে। তবে এবারের সবথেকে বড় চমক হলো, যুবসাথী প্রকল্পের জন্য এখন থেকে ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন জানাতে পারবেন আগ্রহীরা।
শনিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনগুলিকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় নবান্ন জানিয়েছে, আবেদনকারীরা https://sportsandyouth.wb.gov.in/wbyouthservices অথবা https://apas.wb.gov.in পোর্টালের মাধ্যমে দ্রুত অনলাইনেও আবেদন করতে পারবেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই শিবিরগুলি চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই পরিষেবা মিলবে।
স্বনির্ভর বাংলা শিবিরের খুঁটিনাটি
মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী শনিবার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই অভিযানের জন্য একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) জারি করেছেন। কোন বিধানসভার কোথায় এই শিবির বসছে, তা সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই জানতে পারেন তার জন্য ‘স্বনির্ভর বাংলা’ নামে একটি বিশেষ পোর্টালও চালু করা হয়েছে। প্রতিটি শিবিরে পর্যাপ্ত কাউন্টার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। পাশাপাশি, এই শিবিরগুলি থেকে সরকারি ক্ষুদ্র সেচের কর মকুব সম্পর্কেও সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হবে।
দুর্নীতি রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি
ফর্ম বিলি বা জমা দেওয়ার নামে যদি কোনও আধিকারিক বা ব্যক্তি টাকা দাবি করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে নবান্ন। নবান্নের স্পষ্ট বার্তা, জনকল্যাণমূলক এই প্রকল্পে কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন বরদাস্ত করা হবে না এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে।
আবেদনের জন্য কী কী নথি লাগবে?
যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর হওয়ার প্রস্তুতিতে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীর নিজস্ব সিঙ্গল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিগুলি হলো—
- আধার কার্ডের প্রতিলিপি।
- আবেদনকারীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (স্বাক্ষর সম্বলিত)।
- মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ও মার্কশিট।
- ভোটার কার্ড (ঐচ্ছিক)।
- ব্যাংক পাসবইয়ের প্রথম পাতার ফটোকপি।
খেতমজুরদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র ছাড়াই বাকি সব নথি জমা দিতে হবে। আবেদনের পদ্ধতি সহজ করতে অধিকাংশ নথিই ‘সেল্ফ অ্যাটেস্টেড’ করে জমা দেওয়া যাবে। প্রতিটি আবেদন জমা নেওয়ার পর আবেদনকারীকে অবশ্যই একটি ‘অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ’ বা প্রাপ্তি স্বীকার পত্র দিতে হবে বলে এসওপি-তে জানানো হয়েছে। ক্যাম্প চলাকালীনই নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু করে দেবে প্রশাসন।