তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে কি ঢাকা যাচ্ছেন মোদী? তুঙ্গে জল্পনা

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট পার্টি (বিএনপি)। আগামী মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি দলীয় প্রধান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এই মুহূর্তের সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো— ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কি এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন?
শপথের আমন্ত্রণ ও মোদীর অবস্থান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং তারেক রহমানের ফরেন পলিসি অ্যাডভাইজার হুমায়ুন কবীর নিশ্চিত করেছেন যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত দেশের নেতাদেরও এই অনুষ্ঠানে ডাকার পরিকল্পনা রয়েছে, যার তালিকায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নামও থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেই ফোন করে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। যা দুই দেশের কূটনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কেন মোদীর যাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা?
কূটনৈতিক মহলে মোদীর ঢাকা সফর নিয়ে জোর আলোচনা থাকলেও একটি বড় সূচিগত বাধা সামনে আসছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত সফরে আসছেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে রাজভবনের দরবার হলে ম্যাক্রোঁর সাথে মোদীর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। এই আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার কারণেই তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে মোদীর সশরীরে উপস্থিত থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দিল্লি বা ঢাকা— কোনো পক্ষ থেকেই এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি আসেনি।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণ
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড়সড় বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক সময় তারেক রহমানের প্রতি দিল্লির মনোভাব শীতল থাকলেও, বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে আগ্রহী মোদী সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে সার্ক নেতাদের উপস্থিতির পর এবার ঢাকার মাটিতে তেমন এক রাজকীয় জমায়েত দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানের বিশেষত্ব
এবারের শপথ অনুষ্ঠান হবে প্রথা ভেঙে সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজায়। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সাংসদদের শপথের পর বিকেল ৪টেয় ক্যাবিনেট শপথ নেবে বলে জানা গেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৯টি আসন পেয়ে বড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিএনপি।