আরটিআই আইন কি এবার গুরুত্বহীন হতে চলেছে? সুপ্রিম কোর্টের শুনানির দিকে তাকিয়ে দেশ

আরটিআই আইন কি এবার গুরুত্বহীন হতে চলেছে? সুপ্রিম কোর্টের শুনানির দিকে তাকিয়ে দেশ

তথ্য জানার অধিকার (RTI) আইনের ডানা ছাঁটার অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া মামলার আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি দেশের শীর্ষ আদালতে। ডিজিটাল ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা আইনের (DPDP Act) দোহাই দিয়ে আরটিআই আইনের একাধিক ধারায় যে সংশোধন আনা হয়েছে, তাকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর পিপলস রাইট টু ইনফরমেশন’ (NCPRI)।

কেন বিতর্কের মুখে নতুন সংশোধনী

মামলাকারীদের দাবি, নতুন ডিজিটাল ডেটা সুরক্ষা আইনের ৪৪(৩) ধারা আসলে আরটিআই আইনের মূল ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দিয়েছে। এর আগে কোনো সরকারি আধিকারিকের ব্যক্তিগত তথ্য জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে তা প্রকাশ করা যেত। কিন্তু বর্তমান সংশোধনী অনুযায়ী, যেকোনো তথ্যকে ‘ব্যক্তিগত’ তকমা দিয়ে তা জনসমক্ষে আনতে অস্বীকার করতে পারে প্রশাসন।

সুপ্রিম কোর্টে যে সব যুক্তি উঠে আসছে

  • স্বচ্ছতার অভাব: নতুন আইনের ফলে সরকারি আধিকারিকরা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে তথ্য গোপন করার একচ্ছত্র ক্ষমতা পেয়ে যাচ্ছেন।
  • মৌলিক অধিকার খর্ব: অভিযোগ করা হয়েছে যে, সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে দেওয়া মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্য জানার অধিকারকে এই সংশোধনী কার্যত অর্থহীন করে তুলেছে।
  • বৈষম্যের অভিযোগ: সাধারণ নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার আর সরকারি পদাভিধিকারীর গোপনীয়তাকে এক পাল্লায় মাপা হচ্ছে, যা সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।

শুনানির গুরুত্ব

আজ প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে সমাজকর্মী ভেঙ্কটেশ নায়কের দায়ের করা এই মামলার শুনানি হবে। আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভারের সওয়াল অনুযায়ী, এই সংশোধনী কার্যকর হলে সরকার এবং সরকারি আধিকারিকরা দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার আইনি কবচ পেয়ে যাবেন। এখন দেখার বিষয়, স্বচ্ছতা বনাম গোপনীয়তার এই লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী পর্যবেক্ষণ দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *