ইরানের তেলের বাজার ধসিয়ে দিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বড় চাল

ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার সাম্প্রতিক বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন ‘সর্বাত্মক চাপ’ তৈরির কৌশল চূড়ান্ত করা হয়েছে। তেহরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগে বাধ্য করতে এবং চীনের কাছে তেল বিক্রি বন্ধ করতে এই দুই রাষ্ট্রপ্রধান একমত হয়েছেন।
চীন ও ইরানের তেলের বাণিজ্যে বড় ধাক্কা
বর্তমানে ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি যায় চীনে। ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা হলো, বেইজিং যাতে তেহরানের থেকে তেল না কেনে, সেই পথ বন্ধ করা। এর মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্য়েই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক।
কূটনীতি না কি কঠোর ব্যবস্থা
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে একমত হলেও কৌশল নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছুটা মতভেদ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প এখনো মনে করেন ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর দাবি, চুক্তি হলেও তেহরান তা মেনে চলবে না। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে চলেছেন।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ইরানের কোর্টে এখন বল। যদি তারা বাস্তবসম্মত কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে আমেরিকা ‘ফুল ফোর্সে’ বা পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বজায় রাখবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির বিষয়টিও এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।