আলিপুরদুয়ারে রণক্ষেত্র! হোটেলের ঘরে আদিবাসী যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পরেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি

আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের রঙালিবাজনা এলাকা শনিবার সন্ধ্যায় কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একটি হোটেলের বন্ধ ঘর থেকে সুখেশ উরাওঁ নামে এক আদিবাসী যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। উত্তেজিত জনতা হোটেলে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি দুটি ঘর ও বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাদারিহাট, বীরপাড়া, জয়গাঁ এবং হাসিমারা—এই চার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করতে হয়েছে।
নিহত সুখেশ উরাওঁ গোপালপুর চা বাগানের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ান হাইওয়ের ধারে দলদলিয়া এলাকার একটি হোটেলে কাজ করতেন। পরিবারের অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে সুখেশ নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে হোটেলের একটি বন্ধ ঘরে তাঁর দেহ মেলায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয়দের দাবি, এটি নিছক আত্মহত্যা নয় বরং তাঁকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করলে হোটেলের আসবাবপত্র ও জানলার কাচ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বীরপাড়া দমকল কেন্দ্রের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে পুলিশ দ্রুত মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক মিথুন উরাওঁ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “একজন আদিবাসী যুবকের এই রহস্যজনক মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশকে কোনও রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।” বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন।