তেহরানে কি তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তন? মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী পাঠালেন ট্রাম্প

তেহরানে কি তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তন? মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী পাঠালেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ বা রেজিম চেঞ্জই যে সেরা সমাধান, সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, বর্তমান নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার পথ প্রশস্ত হবে।

বিগত যুদ্ধগুলোর ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান ইস্যুতে তিনি এবার চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবেন না। এই হুঁশিয়ারিকে কেবল কথার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে সামরিক দিক থেকেও ইরানকে চাপে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ওয়াশিংটন।

মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় রণসজ্জা

ইরানকে কড়া বার্তা দিতে মধ্যপ্রাচ্যের উপকূলে বিশ্বের বৃহত্তম এবং অত্যাধুনিক পরমাণু চালিত যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ (USS Gerald R. Ford) মোতায়েন করেছে আমেরিকা। এই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের উপস্থিতি ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের এক বড় বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আল্টিমেটাম এবং কূটনৈতিক সমীকরণ

ট্রাম্প প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী এক মাসের মধ্যে কোনো সন্তোষজনক চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিকল্প পথটি তাদের জন্য সব সময়ই খোলা থাকছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথা বললেও, অন্যদিকে তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করতে এই রণতরী মোতায়েনকে এক চূড়ান্ত চাপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউসের এই কড়া অবস্থানের মুখে ইরান পাল্টা কী পদক্ষেপ নেয় এবং বিশ্ব রাজনীতি কোন দিকে মোড় ঘোরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *