মহাশিবরাত্রির ব্রত পালনে অজান্তেই করছেন না তো এই মারাত্মক ভুল? জেনে নিন দেবাদিদেবকে তুষ্ট করার সঠিক শাস্ত্রীয় বিধান

মহা শিবরাত্রি হলো দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার শ্রেষ্ঠ তিথি। দেশজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত এদিন উপবাস রেখে শিবলিঙ্গে জল ঢালেন এবং মহাদেবকে তুষ্ট করার চেষ্টা করেন। তবে পুরাণ অনুসারে, শিবপূজার কিছু বিশেষ নিয়ম ও বিধিনিষেধ রয়েছে যা না মানলে আপনার সমস্ত পরিশ্রম ও কৃচ্ছ্রসাধন বিফলে যেতে পারে। অনেক সময় না জেনেই আমরা এমন কিছু অর্পণ করি যা শাস্ত্র মতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
পূজায় যে জিনিসগুলো ভুলেও ব্যবহার করবেন না
শিবপুরাণ অনুযায়ী, মহাদেব হলেন একজন পরম বৈরাগী ও সন্ন্যাসী। তাই তাঁর পূজায় প্রসাধনী সামগ্রী যেমন সিঁদুর বা হলুদ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া কেতকী ফুল এবং তুলসী পাতা ভুলেও শিবলিঙ্গে অর্পণ করবেন না; পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এই দুটি সামগ্রী মহাদেবের পূজায় অভিশপ্ত ও বর্জিত। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিবলিঙ্গে জল বা দুধ ঢালার সময় কখনোই শঙ্খ ব্যবহার করবেন না। কারণ শঙ্খচূড় নামক অসুরের অস্থির অংশ থেকে শঙ্খের উৎপত্তি, যাকে মহাদেব স্বয়ং বধ করেছিলেন।
ব্রতর নিয়ম ও সংযম
শিবরাত্রির উপবাসে কেবল না খেয়ে থাকাই শেষ কথা নয়, এর জন্য প্রয়োজন মানসিক ও শারীরিক শৃঙ্খলা। ব্রতের দিন পেঁয়াজ, রসুন বা যেকোনো ধরনের আমিষ অর্থাৎ ‘তামসিক’ আহার থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে হবে। আপনি যদি নির্জলা উপবাস করতে চান, তবে শরীরের অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। অসুস্থ বোধ করলে ফলমূল খেয়ে ব্রত পালন করা শ্রেয়।
আধ্যাত্মিক নির্জনতা ও ধ্যান
শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, শিবরাত্রির রাতটি ঘুমিয়ে বা ক্রোধে অতিবাহিত না করে ধ্যান ও মন্ত্র জপ করে কাটানো উচিত। এই পবিত্র রাতে ব্রহ্মচর্য পালন এবং শান্ত মানসিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মহাদেবের আশীর্বাদ পেতে এবং জীবনে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে এই প্রাচীন পরম্পরাগুলি মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন। সঠিক উপায়ে পূজা দিলেই আপনার প্রার্থনা মহাদেবের কাছে পৌঁছাবে এবং আপনি পূর্ণ ফল লাভ করবেন।