কাটোয়া স্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কে হুড়োহুড়ি যাত্রীদের

ভোররাতের শান্ত কাটোয়া স্টেশনে হুলুস্থুল কাণ্ড! রবিবার সাতসকালে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা কাটোয়া-আজিমগঞ্জ লোকাল ট্রেনের একটি কামরায় ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো। আগুনের লেলিহান শিখা আর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা স্টেশন চত্বর। প্রাণভয়ে প্ল্যাটফর্মে থাকা যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়, তৈরি হয় পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি। তবে ট্রেনটি সেই সময় ফাঁকা থাকায় বড়সড় প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে।
রেল সূত্রে খবর, শনিবার রাতে আজিমগঞ্জ থেকে এসে ট্রেনটি কাটোয়া স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল। রবিবার ভোর ৬টা ০৫ মিনিটে ট্রেনটির পুনরায় আজিমগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে, ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ মাঝের একটি কামরা থেকে হঠাৎই ধোঁয়া বেরোতে দেখেন উপস্থিত যাত্রীরা। মুহূর্তের মধ্যে সেই ধোঁয়া আগুনের গোলকায় পরিণত হয়। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে ট্রেনের বগিটি।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জিআরপি এবং আরপিএফ বাহিনী। স্থানীয় দমকল কেন্দ্রে খবর দেওয়া হলে দ্রুত দুটি ইঞ্জিন এসে পৌঁছায়। রেলকর্মীরা তৎপরতার সাথে জ্বলন্ত কামরাটিকে ট্রেনের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন, যাতে আগুন অন্য বগিগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে। প্রায় ৮০ মিনিটের কঠোর পরিশ্রমের পর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
দমকল বাহিনীর প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা অন্তর্ঘাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রেল প্রশাসন। পুড়ে যাওয়া কামরাটি বর্তমানে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। আগুনের জেরে ভোরে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও, বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে।