নিজের চেম্বারেই নারী প্রধানকে জাপটে ধরে চুম্বন! কাঁথিতে তৃণমূল সভাপতির লালসার শিকার সহকর্মী

খোদ সরকারি দপ্তরের অন্দরেই শ্লীলতাহানির চরম সীমা পার! প্রশাসনিক কাজের অছিলায় ডেকে পাঠিয়ে এক মহিলা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে জোরপূর্বক আলিঙ্গন ও চুম্বনের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির বিরুদ্ধে। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির এই নক্কারজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খোদ শাসকদলের এক নারী জনপ্রতিনিধি যদি সরকারি দপ্তরে নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মহিলাদের নিরাপত্তা কোথায়, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লালসার থাবা সরকারি দপ্তরে
অভিযোগের তির পূর্ব মেদিনীপুরের প্রভাবশালী এক তৃণমূল নেতার দিকে, যিনি বর্তমানে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। সূত্রের খবর, প্রশাসনিক আলোচনার নাম করে ওই মহিলা প্রধানকে নিজের চেম্বারে ডেকে পাঠান অভিযুক্ত সভাপতি। সেই সময় ঘরে অন্য কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে ওই নেত্রীটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ, বাধা দেওয়া সত্ত্বেও ওই মহিলাকে কার্যত কুপ্রস্তাব দেওয়া হয় এবং শ্লীলতাহানি করে জোর করে চুম্বন করা হয়। এই আকস্মিক ও ন্যুব্জ ঘটনায় কার্যত ট্রমার মধ্যে রয়েছেন ওই নির্যাতিতা প্রধান। তিনি ইতিমধ্যেই দলীয় নেতৃত্ব ও পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শুভেন্দুর কড়া হুঙ্কার ও রাজনৈতিক উত্তাপ
এই ঘটনা সামনে আসতেই আসরে নেমেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নিজের গড় কাঁথিতে ঘটা এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলকে একহাত নিয়েছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এটি বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর এক কালো দাগ। যেখানে একজন মহিলা প্রধানই সরকারি অফিসে নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। তৃণমূল এই ধরনের লম্পটদের আশ্রয় দিচ্ছে।”
শুভেন্দু অধিকারী আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি অভিযুক্ত ওই ‘বিকৃত মানসিকতার’ নেতাকে গ্রেফতার এবং দল থেকে বহিষ্কার করা না হয়, তবে পুরো কাঁথি জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে বিজেপি।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি
ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে। বিডিও অফিস ও পঞ্চায়েত সমিতির সংশ্লিষ্ট কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে দলের অন্দরেও এই ঘটনা নিয়ে অস্বস্তি চরমে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
সরকারি দপ্তরের চার দেওয়ালে একজন নারী জনপ্রতিনিধির এই হেনস্থার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় স্তরে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার, পুলিশ অভিযুক্ত প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ঠিক কী পদক্ষেপ নেয়।