নন্দীগ্রামে ফের ভাঙন? বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে একজোট তৃণমূল ও সিপিএম

হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামে সমীকরণ বদলে দেওয়ার মতো নতুন এক রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। খোদ বিজেপির দখলে থাকা নন্দীগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে স্থানীয় রাজনীতিতে। তবে সবচেয়ে বড় চমক অন্য জায়গায়— গেরুয়া শিবিরের প্রধানকে সরাতে একই মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল, সিপিএম এবং খোদ বিজেপির বিক্ষুব্ধ সদস্যরা।
দুর্নীতির অভিযোগে টালমাটাল পঞ্চায়েত
মোট ১৭টি আসন বিশিষ্ট এই পঞ্চায়েতে বিজেপির হাতে ছিল ৯টি আসন, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু উন্নয়নের অভাব এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে খোদ নিজের দলের দুই সদস্য প্রধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। বিডিও নাজিরুদ্দিন সরকারের কাছে প্রধানের অপসারণ চেয়ে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাতে স্বাক্ষর করেছেন:
- ২ জন বিজেপি সদস্য
- ৬ জন তৃণমূল সদস্য
- ১ জন সিপিএম সদস্য
বিদ্রোহী সদস্যদের অভিযোগ, এলাকায় কোনো কাজ হচ্ছে না এবং প্রধান নিজের ইচ্ছেমতো পঞ্চায়েত পরিচালনা করছেন। সাধারণ মানুষের স্বার্থেই তাঁরা এই অনাস্থা আনতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক শিবিরের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় নন্দীগ্রামের বিজেপি জেলা নেতৃত্ব কার্যত মৌনব্রত পালন করছেন। অন্যদিকে, এই অদ্ভুত জোট নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েনি বাম শিবির। সিপিএম নেতা পরিতোষ পট্টনায়েক তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলকেই আক্রমণ করে বলেন, “শাসক ও বিরোধী দুই দলই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এখানে কে কার সাথে ঘর করছে বোঝা দায়।”
পঞ্চায়েতের অন্দরে চলা এই সংঘাতের জেরে নন্দীগ্রামের প্রশাসনিক কাজ আপাতত থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, বিডিওর কাছে এই চিঠি জমা পড়ার পর বিজেপি নেতৃত্ব ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে পারে, না কি হাতছাড়া হয় এই গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চায়েত।