ভারতে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েই কি কিস্তিমাত করলেন তারিক রহমান

ভারতে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েই কি কিস্তিমাত করলেন তারিক রহমান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অভাবনীয় মোড় ঘুরিয়ে দিল সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে তারিক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনపి) ৩০০টি আসনের মধ্যে ২১২টিরও বেশি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুశ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই জয় কেবল একটি দলের ক্ষমতায় ফেরা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছাত্র আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলল ঐতিহ্যবাহী শক্তি

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়েছিল, নির্বাচনী ময়দানে সেই বিপ্লবীদের প্রভাব ম্লান হয়ে গেছে। যে ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’ বা ছাত্র সমন্বয়কদের জোট পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিল, তারা মাত্র ৬টি আসনে জয়ী হতে পেরেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “যারা রাস্তায় লড়াই করেছিল তারা রাজপথেই রয়ে গেল, আর যারা পর্দার আড়াল থেকে ছক কষেছিল তারা রাজপ্রাসাদে বসল।” এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, আবেগের চেয়ে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কাঠামোর ওপরই সাধারণ মানুষের আস্থা বেশি।

ড. ইউনূস বনাম তারিক রহমান: দায়বদ্ধতার ফারাক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনকাল এবং তারিক রহমানের আসন্ন সরকারের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য থাকবে জন-জবাবদিহিতা। ড. ইউনূসের আমলে আমেরিকার সাথে হওয়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু তারিক রহমান জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য তাকে দেশের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

দিল্লির কৌশলী অবস্থান ও মোদীর শুভেচ্ছা

ভারত এবার অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এড়াতে ভারত নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর আমন্ত্রণ বিনম্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিপূর্বেই তারিক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভারতের অগ্রাধিকার হলো একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করা, যা প্রতিবেশী দেশ হিসেবে দুই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যকে সুসংহত করবে।

ধাক্কা খেল পাকিস্তানপন্থী প্রচার

গত কয়েক মাস বাংলাদেশে পাকিস্তান-প্ররোচিত ভারতবিরোধী প্রচার তুঙ্গে থাকলেও তারিক রহমানের জয় সেই পালে জল ঢেলে দিয়েছে। তারিক রহমান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জাতীয় স্বার্থেই ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। পাকিস্তানের প্ররোচনায় ভারতের বিরোধিতা করলে অর্থনৈতিকভাবে শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের মতো শোচনীয় দশা হতে পারে, এই বাস্তববোধ এখন বাংলাদেশের নতুন সরকারের মধ্যে প্রকট।

আন্তর্জাতিক সমর্থন ও আগামীর পথ

ভারত ছাড়াও আমেরিকা ও চীন তারিক রহমানের বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছে। এই আন্তর্জাতিক সমর্থন নতুন সরকারের জন্য বড় শক্তি। ভারতের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *