মহা শিবরাত্রিতে মহাদেবকে তুষ্ট করার গোপন মন্ত্র ও আরতি জানুন

মহা শিবরাত্রিতে মহাদেবকে তুষ্ট করার গোপন মন্ত্র ও আরতি জানুন

ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি মানেই শিব-পার্বতীর মিলনের পবিত্র লগ্ন। ২০২৬ সালের মহা শিবরাত্রিতে সকাল থেকেই দেশের প্রতিটি কোণায় মহাদেবের জয়ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। উপবাস রেখে শিবলিঙ্গে জল ও বেলপাতা নিবেদন করার পাশাপাশি যদি ভোলেনাথের বিশেষ আরতি এবং স্তোত্র পাঠ করা যায়, তবে ভক্তের জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে বলে মনে করা হয়। হিন্দু শাস্ত্র মতে, এই বিশেষ দিনে শিবের আরাধনা করলে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ থেকে মুক্তি মেলে।

মহা শিবরাত্রির মাহাত্ম্য ও বিশেষ যোগ

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এই তিথিতেই দেবাদিদেব শিব ও দেবী পার্বতী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ২০২৬ সালের এই মহা শিবরাত্রি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এদিন সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ সহ একাধিক রাজযোগ তৈরি হয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্রবিদদের মতে, বিশেষ কিছু রাশির জাতক-জাতিকা এই দিনে শিবের আশীর্বাদে আর্থিক ও কর্মজীবনে অভাবনীয় উন্নতি করতে পারেন। কলকাতা সহ সারা বাংলায় আবহাওয়া অনুকূল থাকায় মন্দিরগুলিতে ভক্তদের ঢল নেমেছে।

মহাদেবের বিশেষ স্তোত্র: কপূরগৌরম

শিবের আরাধনা শুরু করার আগে এই শক্তিশালী মন্ত্রটি পাঠ করা অত্যন্ত শুভ:

কপূরগৌরম করুণাবতারম সংসারসারম ভুজগেন্দ্রমহারম।

সদা বসন্তং হৃদয়ারবিন্দে ভবং ভবানী সহিতং নমামি॥

শিবের আরতি: ওঁ জয় শিব ওংকারা

আরতির সময় ভক্তিভরে নিচের স্তোত্রটি পাঠ করলে মহাদেব প্রসন্ন হন:

ওঁ জয় শিব ওংকারা…

একানন চতুরানন পঞ্চানন রাজে।

হংসাসন, গরুড়াসন, বৃষবাহন সাজে॥

ওঁ জয় শিব ওংকারা…

দো ভুজ চারু চতুর্ভুজ দশ ভুজ অতি সোহেঁ।

তিনোঁ রূপ নিরখতা ত্রিভুবন জন মোহেঁ॥

ওঁ জয় শিব ওংকারা…

অক্ষমালা, বনমালা, রুণ্ডমালাধারী।

চন্দন, মৃদমগ সোহেঁ, ভালে শশিধারী॥

ওঁ জয় শিব ওংকারা…

শ্বেতাম্বর, পীতাম্বর, বাঘাম্বর অঙ্গে।

সনকাদিক, ব্রহ্মাদিক, ভূতাদিক সঙ্গে॥

ওঁ জয় শিব ওংকারা…

কর কে মধ্য কমণ্ডল চক্র ত্রিশূল ধরতা।

জগকর্তা, জগভর্তা, জগসংহারকর্তা॥

ওঁ জয় শিব ওংকারা…

ব্রহ্মা বিষ্ণু সদাশিব জানত অবিবেকা।

প্রণবাক্ষর মধ্যে ইয়ে তিনোঁ একা॥

ওঁ জয় শিব ওংকারা…

কাশী মে বিশ্বনাথ বিরাজত নন্দী ব্রহ্মচারী।

নিত্য উঠি ভোগ লাগাবত মহিমা অতি ভারী॥

ওঁ জয় শিব ওংকারা…

ত্রিগুণ শিবজী কি আরতি জো কোনো নর গাভেঁ।

কহত শিবানন্দ স্বামী মনবাঞ্ছিত ফল পাবেঁ॥

মহা শিবরাত্রির এই চার প্রহরে জলাভিষেকের পর আরতি সম্পন্ন করলে ভক্তের মনের সকল বাসনা পূর্ণ হয়। আপনি কি এই বছরের শুভ মুহূর্ত এবং রাশিফল সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চান? আমি আপনার জন্য সেই তথ্যগুলো সংগ্রহ করে দিতে পারি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *