মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েই কি বিপদ ডাকছেন আপনি? এবার রাশ টানতে কড়া নির্দেশিকা আনছে কেন্দ্র

মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েই কি বিপদ ডাকছেন আপনি? এবার রাশ টানতে কড়া নির্দেশিকা আনছে কেন্দ্র

সাধারণ সর্দি-কাশি বা সামান্য জ্বরেই কি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলছেন? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে চরম বিপদ। আপনার অজান্তেই আপনার শরীর হয়ে উঠছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্ট, যার ফলে ভবিষ্যতে সামান্য সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার দেশজুড়ে কড়া গাইডলাইন আনতে চলেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।

কেন চিন্তিত আইসিএমআর?

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিএমআর পরিচালিত একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক আতঙ্কিত করার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, ভারতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধের বিরুদ্ধে জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনিবার বেলেঘাটার নিরবি-তে ওআরএস-এর জনক চিকিৎসক দিলীপ মহলানবিশের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসে এই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব তথা আইসিএমআর-এর মহা নির্দেশক রাজীব বহেল। তিনি স্পষ্ট জানান, উপযুক্ত পরীক্ষা ছাড়াই ঢালাও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের এই প্রবণতা বা ‘এম্পিরিক্যাল ট্রিটমেন্ট’ অবিলম্বে রোখা প্রয়োজন।

প্রেসক্রিপশনে বদল আসছে কীভাবে?

আইসিএমআর সূত্রে খবর, চিকিৎসকদের জন্য যে নতুন নির্দেশিকা তৈরি হচ্ছে, তাতে বেশ কিছু কড়া বিধিনিষেধ থাকতে পারে:

  • নির্দিষ্ট সংক্রমণ ও ওষুধ: কোন ধরনের সংক্রমণে ঠিক কোন অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে, তার একটি নির্দিষ্ট তালিকা থাকবে।
  • পরীক্ষা বাধ্যতামূলক: ঢালাও ওষুধের বদলে আগে রোগের উৎস নির্ণয় করার ওপর জোর দেওয়া হবে।
  • ওষুধের মেয়াদ: কতদিন পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক চালানো উচিত এবং ঠিক কখন ওষুধ পরিবর্তন করা প্রয়োজন, তার সুস্পষ্ট গাইডলাইন থাকবে।
  • বিশেষ পরিস্থিতি: শুধুমাত্র জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের উপস্থিত বুদ্ধির ওপর ভিত্তি করে পরীক্ষার আগে ওষুধ দেওয়া যেতে পারে, তবে তা হবে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত।

সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিকের এই অতি ব্যবহার ও অপব্যবহারের ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি সারাতেও চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় ‘প্ল্যান বি’ অর্থাৎ আরও শক্তিশালী ও দামি ওষুধ প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না। জীবাণুরা ওষুধের গঠন চিনে নিয়ে নিজেদের বদলে ফেলছে। এই নতুন কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা কার্যকর হলে এই অপব্যবহার কমবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ কি পারবে সাধারণ মানুষকে এই অদৃশ্য মরণফাঁদ থেকে বাঁচাতে? এখন সেটাই দেখার। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, দোকান থেকে চেয়ে নিজের ইচ্ছেমতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার অভ্যাস এখনই ত্যাগ করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *