মাত্র ১০ মিনিটের সওয়ালে ঘুরল ভাগ্যের চাকা, সুপ্রিম কোর্টে ইতিহাস গড়ে ডাক্তারিতে সুযোগ অভাবী মেধাবী ছাত্রের

মাত্র ১০ মিনিটের সওয়ালে ঘুরল ভাগ্যের চাকা, সুপ্রিম কোর্টে ইতিহাস গড়ে ডাক্তারিতে সুযোগ অভাবী মেধাবী ছাত্রের

মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের ১৯ বছরের তরুণ অথর্ব চতুর্বেদী প্রমাণ করে দিলেন যে, অদম্য জেদ আর মেধা থাকলে প্রতিকূলতাকেও হারানো সম্ভব। কোনো নামী আইনজীবীর সাহায্য ছাড়াই, স্রেফ নিজের আইনি লড়াইয়ের জোরে দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে আদায় করে নিলেন ডাক্তারি পড়ার অধিকার। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে মাত্র ১০ মিনিটের সওয়াল-জবাব বদলে দিল এই লড়াকু তরুণের জীবন।

অভাবের সংসারে চাঁদের হাসি

অথর্বের বাবা মনোজ চতুর্বেদী পেশায় আইনজীবী হলেও কোনোদিন সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেননি। করোনা আবহে যখন আদালত ভার্চুয়াল মোডে চলত, তখন বাবাকে প্রযুক্তিগত সাহায্য করতে করতেই আইনের মারপ্যাঁচ শিখতে শুরু করেন অথর্ব। নিট (NEET) পরীক্ষায় ৫৩০ নম্বর পেয়েও মধ্যপ্রদেশ সরকারের নীতিগত জটিলতায় আটকে গিয়েছিল তাঁর স্বপ্ন। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া (EWS) কোটায় সরকারি কলেজে জায়গা হয়নি, আবার বেসরকারি কলেজে রাজ্য সরকার সেই কোটা চালুই করেনি। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে একাই লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন অথর্ব।

হাইকোর্টের কটাক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের জয়

শুরুতে জবলপুর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। সেখানে বিচারপতির কাছ থেকে শুনতে হয়েছিল বিদ্রূপ। তাঁর আইনি দক্ষতা দেখে বিচারপতি বলেছিলেন, “তোমার ডাক্তার নয়, আইনজীবী হওয়া উচিত।” কিন্তু দমে যাননি অথর্ব। নিজে থেকে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের ফর্ম্যাট দেখে ‘স্পেশাল লিভ পিটিশন’ তৈরি করেন তিনি। দিল্লির খরচ বাঁচিয়ে জবলপুর থেকেই অনলাইনে সারেন সমস্ত প্রক্রিয়া। অবশেষে ফেব্রুয়ারির এক বিকেলে প্রধান বিচারপতির কাছে মাত্র ১০ মিনিট সময় চেয়ে নিয়ে নিজের আর্জি পেশ করেন তিনি।

সংবিধানের ১৪২ ধারার প্রয়োগ

অথর্বের যুক্তিতে মুগ্ধ হয়ে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ ধারার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (NMC) এবং মধ্যপ্রদেশ সরকারকে সাফ নির্দেশ দেওয়া হয় যে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষেই ওই ছাত্রকে বেসরকারি কলেজে ইডব্লিউএস কোটায় ভর্তির সুযোগ দিতে হবে। শীর্ষ আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, “রাজ্য সরকারের নীতি রূপায়ণে বিলম্বের কারণে কোনো যোগ্য পড়ুয়ার স্বপ্ন নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।”

আগামীর অনিশ্চয়তা ও বাবার অঙ্গীকার

আদালতে জয় এলেও লড়াই এখনও শেষ হয়নি। বেসরকারি কলেজে ইডব্লিউএস কোটায় ফি কত হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। সামান্য আয়ের পরিবারে সেই বিপুল খরচ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও ছেলের সাফল্যে গর্বিত বাবা মনোজ চতুর্বেদী। তিনি জানিয়েছেন, ছেলে কোনোদিন কোনো কিছুর বায়না করেনি, শুধু এই একবারই নিজের স্বপ্নের জন্য জেদ ধরেছে। তাই সেই স্বপ্নপূরণে প্রয়োজনে সবটুকু উজাড় করে দিতেও তিনি প্রস্তুত।

রাজ্য সরকারের উদাসীনতার বিরুদ্ধে এক সাধারণ ছাত্রের এই একক লড়াই এখন দেশের লক্ষ লক্ষ নিট পরীক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার আর এক নাম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *