বর্ধমান উইমেন্স কলেজের ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু কি শুধুই টিকিট পরীক্ষকের অপমানে নাকি নেপথ্যে লুকিয়ে প্রণয়ঘটিত অভিমান

বর্ধমান উইমেন্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী জয়শ্রী সরকারের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে দানা বাঁধছে গভীর রহস্য। রেলের টিকিট না কাটায় জরিমানা এবং অপমানের জেরে আত্মহত্যার প্রাথমিক তত্ত্ব সামনে এলেও, পুলিশের তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সত্যিই কি শুধুই ১০০ টাকা জরিমানা আর টিটিই-র কঠোর আচরণ প্রাণ কাড়ল জয়শ্রীর, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে ছিল অন্য কোনো মানসিক যন্ত্রণা?
তদন্তকারীদের আতসকাঁচের তলায় এখন মৃতা ছাত্রীর ব্যক্তিগত জীবন। বন্ধুদের দাবি অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন জয়শ্রী। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর আচরণেও লক্ষ্য করা গিয়েছিল অস্বাভাবিক পরিবর্তন। পুলিশ ইতিমধ্যে তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে খতিয়ে দেখছে কোনো বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গে মনোমালিন্য এই চরম সিদ্ধান্তের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল কি না।
অন্যদিকে, রেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যদিও রেল আধিকারিকদের দাবি, আইনত কোনো ভুল করা হয়নি, তবে পরীক্ষার্থী জেনেও মানবিকতা না দেখানোর বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন খোদ রেলেরই একাংশ। জয়শ্রীর কাকা অবশ্য স্পষ্টভাবে টিকিট পরীক্ষকের দুর্ব্যবহারকেই দায়ী করে মেমারি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অপমান বনাম অভিমানের এই টানাপোড়েনে এক উদীয়মান প্রাণের অকাল বিদায়ে শোকস্তব্ধ গোটা রসুলপুর এলাকা।