এক বালতি নোংরা জলে মেশানো হচ্ছে দুধের প্যাকেট! উত্তরপ্রদেশের স্কুলের ভিডিও দেখে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ

এক বালতি নোংরা জলে মেশানো হচ্ছে দুধের প্যাকেট! উত্তরপ্রদেশের স্কুলের ভিডিও দেখে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ

উত্তরপ্রদেশের মহোবা জেলা থেকে আসা একটি হাড়হিম করা ভিডিও মিড-ডে মিল প্রকল্পের কঙ্কালসার চেহারাটা আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল। সাধারণত আমরা দুধের সাথে জল মেশানোর কথা শুনে অভ্যস্ত, কিন্তু এখানে ঠিক উল্টো কাণ্ড ঘটিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এক বালতি নোংরা জলে মাত্র কয়েক প্যাকেট দুধ মিশিয়ে তা শিশুদের পরিবেশন করার প্রস্তুতি চলছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ভাইরাল হতেই শিক্ষা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওর তিক্ত সত্য

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, স্কুলের বারান্দায় একটি অত্যন্ত নোংরা বালতি রাখা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, রাস্তার ধারের কল থেকে এই জল ভরা হয়েছিল। এক বৃদ্ধ ব্যক্তি সেই নোংরা জলের বালতিতে দুধের প্যাকেট কেটে ঢালছেন যাতে জলটা অন্তত সাদা দেখায়। বালতির পাশে সাজানো রয়েছে ছোট ছোট স্টিলের গ্লাস, যা দিয়ে এই অস্বাস্থ্যকর মিশ্রণ শিশুদের খাওয়ানোর পরিকল্পনা ছিল। সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই পুরো বিষয়টি তদারকি করছিলেন এবং তিনি একবারও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেননি।

নিয়মকে বুড়ো আঙুল

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, মিড-ডে মিল প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি শিশুকে ২০০ মিলিমিটার বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর দুধ দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু মহোবার এই প্রাথমিক স্কুলে ৫০ জন পড়ুয়ার জন্য পুষ্টিকর দুধের বদলে তৈরি করা হচ্ছিল বিষাক্ত ‘দুধ-জল’। এটি কেবল দুর্নীতির বিষয় নয়, বরং মাসুম শিশুদের স্বাস্থ্যের সাথে এক ভয়াবহ ছিনিমিনি।

তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা ও জনরোষ

ভিডিওটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকাকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে নেটিজেনদের ক্ষোভ তাতেও কমছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষ স্কুল কর্তৃপক্ষের এই অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে শিশুদের পুষ্টিই জলে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে তাদের ভবিষ্যৎ কতটা সুরক্ষিত?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *