শিবরাত্রিতে ভক্তের জোয়ারে ভাসছে কাঠমাণ্ডু পশুপতিনাথ মন্দিরে জনসমুদ্রের সেই বিরল দৃশ্য দেখুন

হিমালয়ের কোল ঘেঁষে অবস্থিত নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডু আজ আক্ষরিক অর্থেই শিবময়। মহাশিবিরাত্রির পুণ্য তিথিতে বিশ্ববিখ্যাত পশুপতিনাথ মন্দিরে আছড়ে পড়েছে লাখো ভক্তের ঢল। রবিবার ভোর থেকেই নেপাল ও ভারতের প্রতিটি কোণ থেকে আসা পুণ্যার্থীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মহাদেবের জলাভিষেক ও দর্শনের জন্য অপেক্ষা করছেন। হিন্দু ধর্মে ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ চতুর্দশীর এই রাতটি অন্যতম পবিত্র হিসেবে গণ্য হয়।
ভক্তির দীর্ঘ লাইন ও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
পশুপতিনাথ মন্দিরের চারপাশ জুড়ে এখন শুধুই ভক্তদের জয়ধ্বনি। মন্দির চত্বরে উপস্থিত উৎসব কাটুয়ার নামে এক পুণ্যার্থী জানান, গৌশালা গেট থেকে মন্দির পর্যন্ত প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ভক্তদের মধ্যে ক্লান্তির লেশমাত্র নেই। শিবপুরাণ অনুযায়ী কালরাত্রি, মোহরাত্রি ও সুখরাত্রির মতো শিবরাত্রিও সেই বিশেষ রাত যখন দেবাদিদেব স্বয়ং প্রকট হয়েছিলেন।
আধ্যাত্মিক জাগরণের মহাপর্ব
স্কন্দপুরাণ এবং হিন্দু শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাশিরাত্রির রাতে উত্তর গোলার্ধের নক্ষত্রপুঞ্জের অবস্থান মানুষের আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য সবথেকে অনুকূল থাকে। বাগমতী নদীতে পবিত্র স্নান সেরে অগণিত ভক্ত পশুপতিনাথের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিচ্ছেন। সারাদিন উপবাস থেকে ধ্যান ও ভজন-কীর্তনের মাধ্যমে অতিবাহিত করছেন শান্তি ভক্তের মতো অসংখ্য মানুষ। বিশ্বাস করা হয়, আজকের দিনে পশুপতিনাথের দর্শন মাত্রই জাগতিক সমস্ত কষ্ট দূর হয় এবং মনে পরম শান্তি লাভ ঘটে। ভিড় সামাল দিতে এবং ভক্তদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে মন্দির চত্বরে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।