তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে কি ঢাকা যাচ্ছেন মোদী? তুঙ্গে জল্পনা

বাংলাদেশে পটপরিবর্তনের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন বিএনপি নেতা তথা খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। ঢাকার এই মেগা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন— মোদী কি এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ঢাকা যাবেন?
জয়ের পর মোদী-তারেক কথোপকথন
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে তারেক রহমানের দল বিএনপি। তাদের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। এই বিশাল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোন করে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ফোনালাপে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা।
মোদীর সফর নিয়ে সংশয় কেন?
নিনন্ত্রণপত্র হাতে পেলেও ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঢাকা সফর নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ওই দিন মুম্বইতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ-র সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রয়েছে মোদীর। এছাড়া দিল্লিতে ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ নিয়েও ব্যস্ত থাকবেন তিনি। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, মোদী নিজে যেতে না পারলে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপ-রাষ্ট্রপতি বা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকা যেতে পারেন।
আমন্ত্রিতের তালিকায় পাকিস্তান ও চীন
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস মোট ১৩টি দেশকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা আসতে পারেন। এছাড়াও চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তারেক রহমানের বিদেশ নীতি
ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর বিদেশ নীতির মূল ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশের স্বার্থ’। ভারত, চীন ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চান তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি জানিয়েছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তির সংকল্প নিয়ে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে তারা আগ্রহী।