বন্দি ৭ পাক সেনা ও বিএলএ-র চরম হুঁশিয়ারি! শুরু হলো রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অন্তিম ক্ষণগণনা

বন্দি ৭ পাক সেনা ও বিএলএ-র চরম হুঁশিয়ারি! শুরু হলো রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অন্তিম ক্ষণগণনা

বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারে। বিএলএ বা বেলুচ লিবারেশন আর্মি সম্প্রতি তাদের ‘অপারেশন হেরোফ’-এর পর বন্দি সাত পাকিস্তানি সেনার ভিডিও প্রকাশ করে ইসলামাবাদকে এক চরম বার্তা দিয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি কোয়েটা থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি সাফ জানিয়েছে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাদের দাবি না মানলে এই সেনাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ।

বন্দি বিনিময় নাকি চরম সাজা?

বিএলএ-র দাবি অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়া বেলুচ রাজনৈতিক বন্দি ও যোদ্ধাদের মুক্তি দিতে হবে। এই শর্ত পূরণ হলেই কেবল বন্দি পাক সেনাদের প্রাণভিক্ষা দেওয়া সম্ভব। বিএলএ মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ জানিয়েছেন, বেলুচিস্তানের ১৪টি শহরে একযোগে চালানো হামলায় তারা মোট ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মীকে আটক করেছিলেন। এদের মধ্যে বেলুচ বংশোদ্ভূত ১০ জনকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হলেও, সাতজন পাকিস্তানি সেনাকে বর্তমানে উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত গোপন আস্তানায় বন্দি রাখা হয়েছে।

সংকটে শাহবাজ সরকার

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে বন্দি সেনাদের বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা গিয়েছে, যা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা ও কৌশলগত ব্যর্থতাকে নগ্ন করে দিয়েছে। বিএলএ-র দাবি, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে তারা ৩৬০-এর বেশি পাক সেনাকে খতম করেছে। যদিও পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR) এই সংখ্যাটি অস্বীকার করে পালটা ২১৬ জন জঙ্গিকে মারার দাবি করেছে। তবে ভিডিওতে ‘যুদ্ধবন্দি’ সেনাদের উপস্থিতি এখন বিএলএ-র হাতে বড়সড় দাবার ঘুঁটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এক সপ্তাহের নির্ধারিত সময়সীমা পার হলে বন্দি সেনাদের ‘বিপ্লবী আদালতে’ বিচার করা হবে, যার অর্থ হতে পারে মৃত্যুদণ্ড। এখন দেখার বিষয়, শাহবাজ শরিফ সরকার আলোচনার পথে হেঁটে বন্দি বিনিময় করে নাকি কোনো ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানে নামে। আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ইসলামাবাদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *