লিপস্টিক দিয়ে আয়নায় লেখা বোম আতঙ্ক ইন্ডিগো বিমানে হুলুস্থুল কাণ্ড কলকাতা বিমানবন্দরে

মুম্বই থেকে কলকাতাগামী ইন্ডিগো বিমানে রবিবার এক চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। মাঝ আকাশে বিমানের শৌচালয়ের আয়নায় লিপস্টিক দিয়ে লেখা ‘BOMB’ শব্দটি নজরে আসতেই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটির জরুরি অবতরণ করানো হয়।
মাঝ আকাশে চরম আতঙ্ক
বিমানটি যখন মাঝ আকাশে, তখন এক কেবিন ক্রু সদস্য শৌচালয়ের আয়নায় ওই হুমকিমূলক বার্তাটি দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি পাইলটকে জানানো হয় এবং কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি অবতরণের অনুমতি চাওয়া হয়। পূর্ণ যাত্রী নিয়ে আসা বিমানটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে রানওয়েতে নামার অনুমতি দেয় কর্তৃপক্ষ।
তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান
দুপুর নাগাদ বিমানটি অবতরণ করার পরই সেটিকে একটি আইসোলেটেড বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়। সিআইএসএফ জওয়ান, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এবং স্নিফার ডগ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। আতঙ্কিত যাত্রীদের দ্রুত বিমান থেকে নামিয়ে টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁদের দেহ ও ব্যাগপত্র অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে তল্লাশি করা হয়। কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস তল্লাশির পর নিরাপত্তা আধিকারিকরা নিশ্চিত করেন যে বিমানে কোনো বিস্ফোরক নেই এবং এটি একটি নিছক গুজব বা ‘হোক্স’ ছিল।
তদন্তের মুখে অপরাধী
এই কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজের নেপথ্যে কে রয়েছে, তা জানতে যাত্রীদের তালিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ফরেন্সিক দল আয়নার লিপস্টিক পরীক্ষা করে সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরণের রসিকতা বা মিথ্যে হুমকির ফলে এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলির ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয় এবং যাত্রীরা মানসিক ট্রমার শিকার হন। বর্তমান বিমান চলাচল আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হলে ওই ব্যক্তির ওপর আজীবন বিমান যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে এবং কঠোর ফৌজদারি সাজার মুখে পড়তে হতে পারে। দীর্ঘক্ষণের তল্লাশি ও স্যানিটাইজেশনের পর সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।