দিল্লির বর্তমান অবস্থা যেন এক গ্যাস চেম্বার, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের তীব্র আক্রমণ

দিল্লির বর্তমান অবস্থা যেন এক গ্যাস চেম্বার, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের তীব্র আক্রমণ

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রবিবার রাজধানী দিল্লির ক্রমবর্ধমান দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে কড়া ভাষায় তোপ দেগেছেন। গোরখপুরের জঙ্গল কৌরিয়া এলাকায় নবনির্মিত ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) দপ্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি দিল্লির বাতাসকে কার্যত ‘নিশ্বাস নেওয়ার অযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন। দিল্লির ভয়াবহ পরিবেশকে তিনি সরাসরি একটি ‘গ্যাস চেম্বার’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

উন্নয়ন বনাম পরিবেশ বিপর্যয়

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের উন্নয়ন মডেলের সাথে দিল্লির পরিবেশগত বিপর্যয়ের এক তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রকৃতির বিনিময়ে আসা কোনো অগ্রগতিই কাম্য নয়। তাঁর কথায়, “দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতি দেখলেই বোঝা যায় যে শহরটি একটি গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিটি নিশ্বাসের জন্য লড়াই করছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পরিবেশের ভারসাম্যকে উপেক্ষা করার এটিই সরাসরি ফলাফল।”

রাজনৈতিক কটাক্ষ ও জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ

কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম না নিলেও, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য যে দিল্লির বর্তমান শাসকদলের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত করছে, তা স্পষ্ট। যোগী আদিত্যনাথ উল্লেখ করেন যে, উত্তরপ্রদেশ যখন আক্রমণাত্মকভাবে বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, তখন দিল্লি বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দিল্লির এই বিপজ্জনক বায়ু গুণমান সূচক (AQI) কেবল একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা যা মানুষের আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য আন্তঃরাজ্য দূষণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভাষণের শেষে তিনি নাগরিকদের প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হতে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারলে মানবজাতির অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়বে। দিল্লির বায়ুদূষণ যখন ক্রমাগত ‘ভয়াবহ’ পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, ঠিক তখনই যোগী আদিত্যনাথের এই মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *