কলম্বোর আকাশে দুর্যোগের কালো মেঘে ঢাকা ভারত বনাম পাক মহারণ কি ভেস্তে যাবে

বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথ ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের ওপর এখন অনিশ্চয়তার কালো ছায়া। কলম্বোর আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে রবিবাসরীয় এই মহারণ ঘিরে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকলেও, বাধ সাধতে পারে প্রকৃতি। আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস কোটি কোটি ক্রিকেট প্রেমীর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
শনিবার থেকেই কলম্বোর মেজাজ বিগড়েছে। ভারতীয় দলের নির্ধারিত অনুশীলন সেশন বৃষ্টির দাপটে ভেস্তে গেছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিরাট-রোহিতদের নেট প্র্যাকটিস করার কথা থাকলেও, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ক্রিকেটাররা। রবিবারের মহাযুদ্ধের আগে এই চিত্র মোটেও সুখকর নয়।
শ্রীলঙ্কান আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে কলম্বোর আকাশে মেঘের ঘনঘটা বাড়ছে। রবিবারের পূর্বাভাস বলছে, ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ। একটি আবহাওয়া মডেল জানাচ্ছে, ওই সময়ে প্রায় ৫.১ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। রাতের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে ৩.৮ মিলিমিটারে নামার সম্ভাবনা থাকলেও, দফায় দফায় বৃষ্টি খেলার গতি বারবার রুদ্ধ করতে পারে।
তবে আশার আলো দেখাচ্ছে আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের উন্নত পরিকাঠামো। এই মাঠের ড্রেনেজ সিস্টেম বিশ্বের অন্যতম সেরা। বৃষ্টি থামার অল্প সময়ের মধ্যেই মাঠ খেলার উপযোগী করে তুলতে সক্ষম এখানকার গ্রাউন্ডসম্যানরা। এছাড়া বৃষ্টির সময় পুরো মাঠ কভার দিয়ে ঢেকে রাখার ব্যবস্থা থাকায় আউটফিল্ড ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে।
যদি শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে একটি বলও মাঠে না গড়ায়, তবে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দলকেই ১ পয়েন্ট করে ভাগ করে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশই ৫ পয়েন্ট করে নিয়ে সরকারিভাবে সুপার-৮ রাউন্ডে নিজেদের জায়গা পাকা করে ফেলবে। যদিও ক্রিকেট ভক্তরা পয়েন্ট ভাগাভাগির অঙ্ক নয়, বরং মাঠের লড়াই দেখতেই চাতক পাখির মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করছেন।