তৃণমূলের দুর্গে বড় ধস! এক গোপন সমীক্ষায় বাংলায় ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে চলেছে বিজেপি

কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি বাজার আগেই বাংলার রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর অভ্যন্তরীণ সমীক্ষার রিপোর্ট সামনে আসতেই ঘুম উবেছে শাসক শিবিরের। পদ্ম শিবিরের ঘনিষ্ঠ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এবার আর কেবল বিরোধী আসন নয়, সরাসরি নবান্ন দখলের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
সমীক্ষার সেই ‘বিস্ফোরক’ পরিসংখ্যান
বিজেপির এই অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে গেরুয়া শিবির ১৩৫ থেকে ১৫০টি আসন পকেটে পুরতে পারে। ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। অর্থাৎ, সমীক্ষার রিপোর্ট যদি সঠিক হয়, তবে বিজেপি এবার ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে চলেছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— গত ৫-৬ মাস ধরে বুথ স্তরে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতেই এই আশাবাদী চিত্র ফুটে উঠেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
কেন এবার চাপে তৃণমূল?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার সমীকরণ ২০২১ সালের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। বিশেষ করে তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরার সম্ভাবনা ঘুম কেড়েছে জোড়াফুলের।
- সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ: বিধায়ক হুমায়ুন কবীর যেভাবে বিজেপির সঙ্গে জোটের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং নৌসাদ সিদ্দিকির প্রভাব যেভাবে বাড়ছে, তাতে শাসক দলের নিশ্চিত ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
- ভোটকুশলীদের পর্যবেক্ষণ: বিরোধী ভোট যদি ভাগ না হয় এবং সংখ্যালঘু ভোট যদি তৃণমূল, আইএসএফ ও অন্যান্যদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়, তবে তার সরাসরি ডিভিডেন্ড পাবে বিজেপি।
সাবধানী পদ্ম শিবির
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও বড় বড় দাবি করেছিল বিজেপি। কিন্তু শেষমেশ মমতার ‘খেলা’র সামনে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছিল সুকান্ত-শুভেন্দুদের। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনই এই সমীক্ষা নিয়ে অতি-উচ্ছ্বাসে ভাসতে নারাজ। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই কমিশন নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে। তার আগে এই রিপোর্ট কর্মীদের মধ্যে বাড়তি অক্সিজেন জোগালেও, আসল পরীক্ষা হবে ইভিএমে।