শিবের আশীর্বাদ পেতে মহাশিবরাত্রিতে এই নিয়মগুলো মানছেন তো? জানুন সঠিক পুজো পদ্ধতি

মহাশিবরাত্রি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি তিথি। দেবাদিদেব মহাদেবকে তুষ্ট করতে এই বিশেষ দিনে ভক্তরা নিষ্ঠাভরে ব্রত পালন করেন। তবে শাস্ত্র মতে, শিবের আরাধনায় কিছু বিশেষ নিয়ম এবং উপাচার মেনে চলা আবশ্যিক। জেনে নিন মহাশিবরাত্রির পুজোর সম্পূর্ণ প্রস্তুতি এবং সঠিক বিধি।
পুজোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী
মহাদেবের পুজোয় অত্যন্ত সাধারণ কিছু উপকরণেই তিনি সন্তুষ্ট হন, তবে সেই সামগ্রীগুলো সংগ্রহে রাখা জরুরি। পুজোর থালিতে সাজিয়ে রাখুন—
- বিশুদ্ধ গঙ্গাজল ও পঞ্চামৃত (দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি)
- অখণ্ড বেলপাতা, ধুতুরা ফল ও আকন্দ ফুল
- সাদা চন্দন, ভস্ম ও ভাঙ
- ধূপ, দীপ এবং কর্পূর
পুজোর সঠিক বিধি ও সংকল্প
১. শৌচ ও মানসিক প্রস্তুতি: মহাশিবরাত্রির দিন ব্রহ্মমুহূর্তে স্নান সেরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করুন। এরপর শিবলিঙ্গের সামনে বসে পুজোর সঙ্কল্প গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। মনে রাখবেন, এই পুজোয় মানসিক শুদ্ধতা এবং একাগ্রতা সবচেয়ে বড় বিষয়।
২. অভিষেক ও মন্ত্রোচ্চারণ: মহাদেবকে তুষ্ট করার সহজ উপায় হলো জল অভিষেক। ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ এই মহামন্ত্র জপ করতে করতে শিবলিঙ্গে একে একে গঙ্গাজল, পঞ্চামৃত ও শুদ্ধ জল অর্পণ করুন। এরপর চন্দনের প্রলেপ লাগিয়ে তাতে বেলপাতা, ধুতুরা ও আকন্দ ফুল ভক্তিভরে নিবেদন করুন।
৩. স্তোত্র পাঠ ও আরতি: পুজোর মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর শিব চালিশা পাঠ করা অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়। এতে গৃহস্থের অমঙ্গল দূর হয় এবং ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পায়। সবশেষে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে শিবের আরতি সম্পন্ন করুন এবং নিজের মনস্কামনা জানান।
বিশেষ সতর্কতা
শিবের পুজোয় কখনোই কেতকী ফুল বা সিঁদুর ব্যবহার করবেন না, কারণ শাস্ত্রে এগুলি নিষিদ্ধ। সম্পূর্ণ উপবাস থেকে বা নিরাহার থেকে চার প্রহরের পুজো করলে মহাদেবের বিশেষ কৃপা লাভ করা সম্ভব হয়।