বিড়াল নয় বরং লন্ডনের এক পুঁচকে মেয়ে! ৪৬ বছর পর বিদায় নিলেন ‘হ্যালো কিটি’র স্রষ্টা ইউকো ইয়ামাগুচি

গোলাপি রঙের রিবন আর মিষ্টি সেই মুখ— ‘হ্যালো কিটি’ মানেই শৈশবের একরাশ নস্ট্যালজিয়া। গত চার দশক ধরে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের মন জয় করে নেওয়া এই কালজয়ী কার্টুন চরিত্রের নেপথ্যে থাকা কারিগর ইউকো ইয়ামাগুচি অবশেষে অবসর নিলেন। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর জাজল আইকন ‘সানরিও’ কো ম্পা নির প্রধান ডিজাইনারের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি।
লন্ডনের মেয়ে থেকে গ্লোবাল ব্র্যান্ড
অনেকেই হ্যালো কিটিকে বিড়াল মনে করেন, কিন্তু ইউকো ইয়ামাগুচি বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে কিটি আসলে লন্ডনের একটি ছোট্ট মেয়ে। ১৯৮০ সাল থেকে এই চরিত্রের বিবর্তনের দায়িত্ব ছিল ইউকোর কাঁধে। তাঁর ছোঁয়ায় একটি সাধারণ ভিনাইল কয়েন পার্সের ইলাস্ট্রেশন থেকে হ্যালো কিটি আজ অ্যাডডাস বা বালেনিয়াগার মতো বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ডের অংশ। রাইস কুকার থেকে শুরু করে বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ— সর্বত্রই বিরাজমান এই ‘কাওয়াই’ আইকন।
ইউকোর বর্ণময় সফর
শুধু পর্দার আড়ালে নয়, বাস্তব জীবনেও ইউকো ইয়ামাগুচি ছিলেন হ্যালো কিটির একনিষ্ঠ অনুরাগী। জনসমক্ষে তাকে প্রায়শই কিটির স্টাইলের পোশাক এবং চুলে নির্দিষ্ট কায়দার জুঁটি বেঁধে দেখা যেত। ভক্তদের মনের কথা বুঝে এবং দেশি-বিদেশি নামী শিল্পীদের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি হ্যালো কিটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সানরিও সংস্থা গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে ইউকোকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানিয়েছে, পরবর্তী প্রজন্মের হাতে এখন এই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ নতুন ডিজাইনারের নাম ঘোষণা করবে কো ম্পা নি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও থিম পার্ক
হ্যালো কিটির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কোনো লক্ষণই নেই। উল্টো ওয়ার্নার ব্রাদার্সের প্রযোজনায় এই চরিত্রকে নিয়ে একটি বড় পর্দার সিনেমা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি চিনে তৈরি হতে চলেছে বিশালাকার ‘হ্যালো কিটি থিম পার্ক’, যা আগামী বছরই জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
পোকেমন বা ড্রাগন বলের মতো নির্দিষ্ট গল্প না থাকলেও, কিটি হোয়াইটের (কিটির আসল নাম) নিজস্ব এক জগত আছে। তার যমজ বোন মিম্মি, বয়ফ্রেন্ড ডিয়ার ড্যানিয়েল এবং পোষ্য বিড়াল চার্মি কিটিকে নিয়ে সাজানো সেই জগত আরও রঙিন করে তোলার দায়িত্ব এখন নতুন প্রজন্মের কাঁধে। ৪৬ বছরের দীর্ঘ যাত্রায় ইউকো ইয়ামাগুচি যে উত্তরাধিকার রেখে গেলেন, তা আগামী বহু বছর বিশ্বজুড়ে ‘কিটি প্রেমীদের’ অনুপ্রাণিত করবে।