তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত! ওম বিড়লাকে ঢাকা পাঠিয়ে কি বড় চমক দিলেন মোদী

তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত! ওম বিড়লাকে ঢাকা পাঠিয়ে কি বড় চমক দিলেন মোদী

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় নিতে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন তারেক রহমান। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে সশরীরে হাজির থাকছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। বিএনপি-র বিশাল জয়ের পর নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই পদক্ষেপকে কূটনীতির এক ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

মোদী-তারেক ফোনালাপ ও বন্ধুত্বের নতুন বার্তা

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেন তারেক রহমানকে। দীর্ঘ সময় চলা সেই ফোনালাপে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের প্রতি ভারতের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান মোদী। যদিও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকের কারণে মোদী নিজে ঢাকা যেতে পারছেন না, তবে লোকসভার অভিভাবক ওম বিড়লাকে পাঠিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি ভারতের সম্মান ও গুরুত্ব অপরিসীম।

কূটনৈতিক সমীকরণ ও ভারতের কৌশল

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি-র সাথে ভারতের সম্পর্কের শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও, ওম বিড়লার এই সফর সেই বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রিও থাকছেন এই প্রতিনিধি দলে। একদিকে বাংলাদেশ যখন পাকিস্তান, চীন ও সৌদি আরবসহ ১৩টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বিদেশনীতির পথে হাঁটছে, তখন ভারতও কোনো সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ।

সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

নয়াদিল্লি এখন অতীত ভুলে বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং তিস্তা জলবণ্টনের মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলোতে নতুন করে কাজ করতে আগ্রহী। ভারতের এই উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ প্রমাণ করছে যে, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে চলতে প্রস্তুত মোদী সরকার। ঢাকার রাজপথে ওম বিড়লার উপস্থিতি কি আগামী এক দশকের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন রূপরেখা তৈরি করবে? এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *