নিজের সন্তানকে দেহ ব্যবসায় নামাতে মায়ের রুদ্ধশ্বাস ষড়যন্ত্র এবং প্রেমিকের স্কুটিতে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

NEWS DESK : বর্ধমানের গোলাপবাগ মোড়ে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়া এক যুগলকে কেন্দ্র করে সামনে এল এক হাড়হিম করা পারিবারিক ষড়যন্ত্র। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, নিজের মেয়েকে দেহ ব্যবসায় নামাতে চেয়েছিলেন খোদ মা। এমনকি দোল উৎসবের সময় দিঘার এক অভিজাত হোটেলে মেয়েকে পাঠানোর জন্য পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আগাম চুক্তিও সেরে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু মেয়েটি সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখায় ক্ষুব্ধ মা এই ভয়ানক ছক কষেন।
পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে যে, মেয়েকে আটকাতে না পেরে অভিযুক্ত মা তাঁর মামাতো ভাই শ্রীকান্ত দাস এবং পূর্ব পরিচিত জুয়েল আহমেদের সাহায্য নেন। শ্রীকান্ত কৌশলে যুবকের স্কুটির ডিকির একটি নকল চাবি তৈরি করে এবং খাগড়াগড়ের বাসিন্দা জুয়েলের কাছ থেকে একটি ছ’ঘরার রিভলভার সংগ্রহ করে তা স্কুটির ভেতরে লুকিয়ে রাখে। এরপর মহিলার নির্দেশেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয় যে, এক যুবক স্কুটিতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘুরছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই যুবক ও তাঁর প্রেমিকাকে আটক করলেও জিজ্ঞাসাবাদের পর আসল সত্য সামনে আসে।
এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে শনিবার রাতেই শাঁখারিপুকুর এলাকা থেকে শ্রীকান্ত দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম সহযোগী জুয়েল ওরফে নজরুল ইসলামের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। উল্লেখ্য, এই জুয়েলের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বর্ধমানের একটি হোটেলে খুনের মামলাও রয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে তদন্ত জারি রেখেছে।