মৃত্যুঞ্জয়ী ভোলানাথের টানে ৩০০ কিমি দণ্ডি কেটে বকখালি থেকে ওড়িশা পাড়ি যুবকের

NEWS DESK : ভক্তির টানে অসাধ্য সাধনের পথে নামখানার হরিপুরের বাসিন্দা বাসুদেব জানা। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে মহাদেবের কাছে করা মানত পূরণ করতে এক অভিনব যাত্রা শুরু করেছেন এই যুবক। পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি বাসুদেব রবিবার শিব চতুর্দশীর পুণ্য তিথিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি সমুদ্রতট থেকে ওড়িশার চন্দনেশ্বর মন্দিরের উদ্দেশ্যে দণ্ডি কাটতে কাটতে রওনা দিয়েছেন। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দুর্গম পথ তিনি এভাবেই অতিক্রম করবেন বলে সংকল্প করেছেন।
জানা গিয়েছে, মাস চারেক আগে একটি বাড়িতে ইলেকট্রিকের কাজ করার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন বাসুদেব। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ফলে তাঁর একটি হাত সম্পূর্ণ অসাড় হয়ে যায় এবং তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ দুই মাস হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার সময় তিনি মনে মনে ভোলানাথের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যে, সুস্থ হয়ে ফিরলে তিনি বকখালি থেকে চন্দনেশ্বর পর্যন্ত দণ্ডি কেটে প্রণাম জানাবেন। বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার পর সেই কঠিন প্রতিজ্ঞা পালনেই ব্রতী হয়েছেন তিনি।
বাসুদেবের এই যাত্রাপথের সঙ্গী একটি বিশেষ ধরনের স্পঞ্জ, যার ওপর শুয়ে তিনি দণ্ডি কাটছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা তাঁর এই অদম্য নিষ্ঠা দেখে অবাক হচ্ছেন। বাসুদেব জানান, দুর্ঘটনার পর জীবন ফিরে পাওয়া তাঁর কাছে একপ্রকার পুনর্জন্মের মতো। তাই ঈশ্বরের আশীর্বাদকে পাথেয় করে যত কষ্টই হোক না কেন, চন্দনেশ্বর মন্দিরে পৌঁছে মহাদেবের মাথায় জল ঢেলে মানত পূর্ণ করাই এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। ভক্তি ও বিশ্বাসের এই বিরল দৃষ্টান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।