তেহরানের ওপর ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বড় চাল, তেল রপ্তানি রুখতে মহানির্দেশ ওয়াশিংটনের

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে এবার একজোট হলো আমেরিকা ও ইজরায়েল। চলতি সপ্তাহে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর হাই-প্রোফাইল হোয়াইট হাউস সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এই বিশেষ রণকৌশল নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios) মার্কিন প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্তার বরাতে জানিয়েছে, তেহরানের তেলের বাজারের ওপর বড়সড় আঘাত হানতে চলেছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু।
চিনের ওপর পরোক্ষ চাপ তৈরির কৌশল
বর্তমানে ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবথেকে বড় গ্রাহক হলো চিন। ওয়াশিংটন ও জেরুজালেম মনে করছে, চিনের কাছে ইরানের তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই তেহরানের প্রধান আয়ের উৎস বন্ধ করা সম্ভব হবে। বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের ওপর শুধু সরাসরি নিষেধাজ্ঞা চাপানোই নয়, বরং যে সমস্ত দেশ ইরান থেকে তেল কিনছে, তাদের ওপরও কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ
কূটনৈতিক মহলের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরানের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। নেতানিয়াহুর সঙ্গে এই বৈঠক প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে ট্রাম্প প্রশাসন এবার ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ নীতিতে আরও আগ্রাসী হবে। বিশেষ করে চিনের মতো মহাশক্তিকে ইরান থেকে দূরে সরিয়ে আনা এই পরিকল্পনার সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ব তেল বাজারে যেমন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, তেমনই আমেরিকা ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নতুন করে তিক্ততা তৈরির সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। শেষ পর্যন্ত বেজিং ওয়াশিংটনের এই পরোক্ষ চাপ কতটা মেনে নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।