অপারেশন সিন্দুরের সাফল্য ও পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের মেঘ! মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

অপারেশন সিন্দুরের সাফল্য ও পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের মেঘ! মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

সীমান্তে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ? ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে কি ফের এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পথে হাঁটছে ভারত? প্রতিরক্ষা বাজেটে নজিরবিহীন ১৫ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে চলা অস্থিরতার আবহে এই জ্বলন্ত প্রশ্নের সোজাসাপ্টা জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সেনাবাহিনীকে আধুনিকীকরণে তাঁর সরকার কোনো আপস করবে না।

শত্রুপক্ষকে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কা ঠিক কতটা বাস্তব? জবাবে কোনো রাখঢাক না রেখেই মোদী বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্বার্থে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা ঠিক সেটাই করব। শুরু থেকেই আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ভারতকে সর্বদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

অপারেশন সিন্দুর ও ভারতের রণকৌশল

‘অপারেশন সিন্দুর’-এর রণকৌশলগত জয়কে ভারতীয় সামরিক শক্তির এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অপারেশন সিন্দুরের সাফল্য আজ গোটা দেশের গর্ব। গত দশ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যে আমূল সংস্কার আনা হয়েছে, এই অপারেশন তারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে সাহস এবং আত্মত্যাগ দেখিয়েছে তা অভাবনীয়।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিযানের শিক্ষা এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় অংকের বরাদ্দ বৃদ্ধির নেপথ্যে কাজ করেছে।

রেকর্ড গড়া প্রতিরক্ষা বাজেট

১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ পেশ করা কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের জন্য বরাদ্দ গত বছরের ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে। এই বিপুল ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল একটি কাগুজে নথি নয়, বরং ভারতের ভবিষ্যতের সুরক্ষা কবচ। অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, ড্রোন প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর যুদ্ধ সরঞ্জামে ভারতীয় সেনাকে সজ্জিত করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।

শক্তিশালী অর্থনীতি ও যুবশক্তির জাগরণ

বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত কীভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, সে প্রসঙ্গেও আলোকপাত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের মূল শক্তি হলো এর বিশাল যুব সমাজ। মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে স্টার্টআপ বা ক্রীড়াক্ষেত্র—সব জায়গাতেই ভারতীয় তরুণরা বিশ্বজয় করছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে দ্রুতগতির আর্থিক বিকাশের মাধ্যমেই ভারত এক শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

লাল কেল্লার প্রাকার থেকে দেওয়া তাঁর সেই বিখ্যাত স্লোগান ‘সহি সময় হ্যায়, ইয়েহি সময় হ্যায়’ (এটাই সময়, এটাই সঠিক সময়)-কে স্মরণ করে মোদী বলেন, আজ গোটা ভারত এক নতুন আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান। যে কোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে ভারত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম এবং প্রস্তুত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *