এআই বিপ্লবে ভারত কি বিশ্বকে পথ দেখাবে? আজ ভারত মণ্ডপমে মেগা এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

নয়াদিল্লি: প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে ভারত। আজ বিকেল ৫টায় রাজধানী দিল্লির ভারত মন্ডপমে ‘ইন্ডিয়া এআই ইম্প্যাক্ট এক্সপো ২০২৬’-এর জমকালো উদ্বোধন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টটি কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর শক্তিকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার এক মহাযজ্ঞ।
প্রযুক্তির মহামিলন মেলা
প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) থেকে জানানো হয়েছে, এবারের এক্সপোটি ৭০,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে ১০টি বিশালাকার অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে বিশ্বখ্যাত টেক জায়ান্ট থেকে শুরু করে নবীন স্টার্টআপ এবং শিক্ষাবিদদের মিলনমেলা ঘটবে। এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য হলো নীতি নির্ধারণের সাথে বাস্তব প্রয়োগের সমন্বয় ঘটানো এবং উদ্ভাবনকে বৃহৎ পরিসরে কার্যকর করা।
বিশ্বমঞ্চে ভারত ও ১৩টি বন্ধু দেশ
এবারের এক্সপোতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক অনন্য চিত্র ধরা পড়বে। ভারত মন্ডপমে ১৩টি দেশের বিশেষ প্যাভিলিয়ন থাকছে, যার মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, সার্বিয়া, এস্তোনিয়া, তাজিকিস্তান এবং আফ্রিকার দেশগুলি। আন্তর্জাতিক এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভারত এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মানুষ, পৃথিবী ও প্রগতির মেলবন্ধন
এই মেগা ইভেন্টের প্রধান তিনটি থিম হলো— ‘পিপল, প্ল্যানেট অ্যান্ড প্রগ্রেস’ (মানুষ, পৃথিবী ও উন্নতি)।
- স্টার্টআপ শক্তি: ৬০০-র বেশি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টার্টআপ তাদের উদ্ভাবন প্রদর্শন করবে, যার মধ্যে অনেকগুলোই বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা-ভিত্তিক সমস্যার সমাধানে সক্ষম।
- লাইভ ডেমোস্ট্রেশন: ৩০০-র বেশি নির্বাচিত প্রদর্শনী এবং লাইভ ডেমো থাকছে, যা সাধারণ মানুষকে এআই-এর বাস্তব ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেবে।
- বিশাল জমায়েত: আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি মিলিয়ে প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
৫ দিন ব্যাপী আলোচনার ঝড়
উদ্বোধনের পাশাপাশি এই পাঁচ দিনে ৫০০-র বেশি অধিবেশন বা সেশন অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ৩,২৫০ জনেরও বেশি দূরদর্শী বক্তা এবং বিশেষজ্ঞ অংশ নেবেন। কীভাবে এআই-এর রূপান্তরকারী প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি বিশ্ব নাগরিকের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়, তা নিয়েই চলবে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সরকার এবং ব্যক্তিগত খাতের এই যৌথ প্রয়াস ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির ভিতকে আরও মজবুত করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আজ বিকেল ৫টা থেকেই শুরু হচ্ছে সেই আগামীর পথে যাত্রা।