প্রেসক্রিপশন ছাড়া মিলবে না অ্যান্টিবায়োটিক! ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহারে কড়া রাশ টানছে আইসিএমআর

NEWS DESK : শরীর খারাপ হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বা ওষুধের দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ার অভ্যাস এবার বন্ধ হতে চলেছে। দেশে ক্রমবর্ধমান ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্স’ বা ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে কড়া নির্দেশিকা আনতে চলেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। আইসিএমআর-এর প্রধান রাজীব বহেল জানিয়েছেন, ল্যাবরেটরি পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া এবং রোগ সঠিকভাবে শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকরা রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারবেন না। শুধুমাত্র সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট বিধি মেনে ওষুধ দেওয়া যাবে।
নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনে স্পষ্ট করে লিখতে হবে ঠিক কোন কারণে এবং কী যুক্তিতে রোগীকে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ওষুধ বিক্রেতাদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর হচ্ছে; বৈধ প্রেসক্রিপশন এবং ওষুধের প্রয়োজনীয়তা যাচাই না করে কোনও গ্রাহককে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না। মূলত মূত্রনালির সংক্রমণ, টাইফয়েড ও নিউমোনিয়ার মতো রোগের ক্ষেত্রে অনেক সময় পুরনো ওষুধ আর কাজ করছে না বলে গবেষণায় উঠে এসেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যথেচ্ছ ওষুধের ব্যবহারে জীবাণুরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং সাধারণ ওষুধগুলি তাদের কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে। ভারতে প্রতি বছর অসংখ্য শিশুর মৃত্যু হচ্ছে এই ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণের কারণে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই আইসিএমআর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে। ভুল ওষুধের প্রয়োগ রুখতে এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এখন থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের আগে মেডিক্যাল টেস্ট বাধ্যতামূলক করার পথেই হাঁটছে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা।