২০২৭ সালের মধ্যে ৯৯ শতাংশ চাকরি গায়েব হওয়ার মারাত্মক হুঁশিয়ারি

২০২৭ সালের মধ্যে ৯৯ শতাংশ চাকরি গায়েব হওয়ার মারাত্মক হুঁশিয়ারি

NEWS DESK : ২০২৭ সালের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের মানচিত্রে এক প্রলয়ঙ্কারী পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে দাবি করেছেন প্রখ্যাত এআই বিশেষজ্ঞ রোমান ইয়াম্পোলস্কি। লুইসভিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক ও কম্পিউটার বিজ্ঞানীর মতে, ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই আত্মপ্রকাশ করতে পারে ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ বা এজিআই। এই প্রযুক্তি মানুষের বৌদ্ধিক ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে, যার ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমান বাজার থেকে প্রায় ৯৯ শতাংশ চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইয়াম্পোলস্কি সতর্ক করেছেন যে, এআই প্রথমে কম্পিউটার-ভিত্তিক কাজ এবং পরবর্তীতে উন্নত রোবোটিক্সের মাধ্যমে কায়িক শ্রমের জায়গাগুলোও দখল করে নেবে।

এই ভয়াবহ বেকারত্বের আশঙ্কার মাঝেও সামান্য আশার আলো দেখিয়েছেন ইয়াম্পোলস্কি। তিনি জানিয়েছেন, মূলত পাঁচটি ক্ষেত্র এআই-এর এই আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চবিত্তদের ব্যক্তিগত পরিষেবা, যেখানে মানবিক স্পর্শ জরুরি। এছাড়া থেরাপি বা কাউন্সেলিংয়ের মতো আবেগ ও সহমর্মিতা নির্ভর পেশাগুলো টিকে থাকবে। পাশাপাশি, এআই সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ, এআই প্রশিক্ষণ দাতা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কারিগরি পেশার চাহিদা বজায় থাকবে। তবে মাইক্রোসফ্টের এআই প্রধান মুস্তাফা সুলেমানও একমত যে, আইনজীবী বা হিসাবরক্ষকদের মতো ‘হোয়াইট কলার’ চাকরিগুলোও এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে।

প্রযুক্তিগত এই উল্লম্ফন মানবসভ্যতাকে এক অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। ইয়াম্পোলস্কির মতে, যেখানে ১০ শতাংশ বেকারত্বই উদ্বেগের কারণ, সেখানে ৯৯ শতাংশ কাজ হারানো মানে যুবসমাজের জন্য এক চরম বিপর্যয়। বর্তমানের প্রায় ৬০ শতাংশ চাকরি এখনই এআই মডেল দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। এই পরিস্থিতিতে কেবল পুনঃপ্রশিক্ষণ নিয়ে টিকে থাকা সম্ভব কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ মানুষ যা করতে সক্ষম, এআই যদি তার চেয়ে নিখুঁতভাবে সবটাই করতে শুরু করে, তবে কর্মসংস্থানের বিকল্প পথগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *