বাণিজ্য যুদ্ধে ভারতের দাপুটে প্রত্যাবর্তন, ২০২৬ বাজেটে বড় চমক প্রধানমন্ত্রীর

বাণিজ্য যুদ্ধে ভারতের দাপুটে প্রত্যাবর্তন, ২০২৬ বাজেটে বড় চমক প্রধানমন্ত্রীর

NEWS DESK : বাণিজ্য চুক্তি থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর মতে, শক্তিশালী উৎপাদন খাত এবং এমএসএমই-র ওপর ভিত্তি করে ভারত এখন বিশ্বমঞ্চে সমানে সমানে প্রতিকূলতা মোকাবিলা করছে। এই দৃঢ় অবস্থানের ফলেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিগত ইউপিএ আমলের কূটনৈতিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে মোদী জানান, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ভারত আলোচনায় আশানুরূপ ফল পায়নি। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছ নীতির কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বেড়েছে। সরকারের ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’ বা সংস্কারের গতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ত্বরান্বিত। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকীকরণে জোর দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে।

২০২৬ সালের বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জনমোহিনী প্রচারের পথে না হেঁটে এই বাজেটে পরিকাঠামো নির্মাণে রেকর্ড পরিমাণ মূলধনী বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। দেশের যুবসমাজকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। মোদীর মতে, সেকেলে পরিকাঠামো নিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাই গতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন প্রজন্মের পরিকাঠামো নির্মাণে জোর দিচ্ছে এনডিএ সরকার।

পরিশেষে, বেসরকারি ক্ষেত্রকেও সাহসী বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি হলো, শক্তিশালী অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও আধুনিক পরিকাঠামোর মাধ্যমেই ভারত বিশ্বের দরবারে প্রবৃদ্ধির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সংস্কারের এই ধারা বজায় রেখে ২০২৬ সালের বাজেটের মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও মজবুত করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *