সূর্যগ্রহনে কেন বন্ধ থাকে মন্দিরের দরজা এবং কী এই সূতক কালের মহিমা

সূর্যগ্রহনে কেন বন্ধ থাকে মন্দিরের দরজা এবং কী এই সূতক কালের মহিমা

NEWS DESK : বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ও শাস্ত্রীয় বিধান

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হতে যাচ্ছে। হিন্দু শাস্ত্র মতে, গ্রহণের এই সময়কালকে ‘সূতক কাল’ বলা হয়, যা আধ্যাত্মিকভাবে অত্যন্ত অশুচি ও নেতিবাচক বলে বিবেচিত। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, গ্রহণের সময় রাহু ও কেতুর প্রভাবে সূর্য রশ্মিতে নেতিবাচকতা বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব পড়ে দেব-দেবীর মূর্তির ওপর। এই কারণেই গ্রহণের সময় মন্দিরের কপাট বন্ধ রাখা হয় এবং মূর্তি পূজা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সূর্য হলো জগতের আত্মা ও শক্তির প্রধান উৎস। গ্রহণের সময় সূর্যদেব পীড়িত অবস্থায় থাকেন এবং মহাবিশ্বে নেতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়। শাস্ত্র মতে, দেব-দেবীর মূর্তি এই অশুভ শক্তি শোষণ করতে পারে, যা তাদের পবিত্রতা নষ্ট করে। তাই এই সময়টিকে ঈশ্বরের ‘বিশ্রাম কাল’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সময় সশরীরে পূজা বা মূর্তি স্পর্শ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ হয় না, উল্টো মানসিক শান্তি ও একাগ্রতা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তবে বাহ্যিক পূজা নিষিদ্ধ হলেও এই সময়ে মানসিক জপ ও নাম-স্মরণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শাস্ত্রে উল্লেখ আছে যে, গ্রহণ চলাকালীন মনে মনে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ বা গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করলে তা সাধারণ সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি ফলদায়ী হয়। এটি ভক্তের চারপাশে একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করে এবং আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই এই সময়টি সিদ্ধি লাভের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত বলে মনে করা হয়।

গ্রহণ শেষ হওয়ার পর শুদ্ধিকরণের নির্দিষ্ট বিধি রয়েছে। গ্রহণ শেষে স্নান সেরে নিজেকে পবিত্র করা এবং গঙ্গাজল ছিটিয়ে ঘর ও ঠাকুরঘর পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক। দেব-দেবীর মূর্তিকে পবিত্র জলে স্নান করানোর পরেই নিয়মিত পূজা শুরু করা যায়। এছাড়া গ্রহণের পর অন্ন বা দীপ দান করলে সূর্যদেবের কৃপায় জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *